রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

এ বিষয়ে শুনেছি প্রতিবাদ করিনি, উপর মহলের ব্যাপার: বশেমুরবিপ্রবি ভিসি

  • আপডেট টাইম সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১, ১২.০৮ পিএম

শাফিউল কায়েস ও সাগর দে


জাতীয় সংসদে ২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১ পাসের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে যাত্রা শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত রয়েছে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু সম্প্রতি এই একই নামে পিরোজপুরেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সম্প্রতি পিরোজপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর, আইন ২০২০ পাস হয়।

তবে ফেব্রুয়ারি মাসে বহুল পঠিত ম্যাগাজিন ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ এর তথ্যে দেখা যায় পুরোপুরি মিলে গিয়েছে পিরোজপুরে প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সাথে বশেমুরবিপ্রবি গোপালগঞ্জের সাথে।

একই নামে দুই বিশ্ববিদ্যালয়, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

একই নামে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় হলে পরিচয় সংকটে ভুগবে শিক্ষার্থীরা এমন মন্তব্য করে বশেমুরবিপ্রবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী রথীন্দ্র নাথ বাপ্পি বলেন, ‘একই নামে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় হলে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই পরিচয় সংকটে ভুগবে। কারণ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু স্বাধীন ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকে, যা তার নামের মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠে। বঙ্গবন্ধুর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ আবার একই নামে দুটি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টিকটুও বটে।’

তিনি আরও জানান, এ রকম কোন নজির অন্য কোথায় আছে বলেও আমার জানা নেই। তবে এভাবে যত্রতত্র বঙ্গবন্ধু নাম ব্যবহারের পেছনে একটি রাজনৈতিক স্বার্থ আছে। কর্তাব্যক্তিরা মনে করে বঙ্গবন্ধুর নামে বেশি বেশি প্রতিষ্ঠান করলেই মনে হয় বঙ্গবন্ধুর নাম উজ্জ্বল হবে। এটা ভুল ধারণা। বঙ্গবন্ধুর নামে যদি একটি প্রতিষ্ঠান থাকে এবং তার শিক্ষার মান যদি বিশ্বমানের হয় তাহলে বঙ্গবন্ধুর নাম উজ্জ্বল হবে।

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বশেমুরবিপ্রবি, পিরোজপুর

জব মার্কেটে বাধা হিসেবে কাজ করবে জানিয়ে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিপ দাস বলেন, যখন আমরা জব মার্কেটে প্রবেশ করব, তখন এই ব্যাপারটা আমাদের জন্য বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করবে তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের নিয়ে বিভিন্ন ট্রল হচ্ছে যে, আমরা স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় নয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপালগঞ্জ শাখা তে অধ্যায়ন করছি। সুতরাং একজন বশেমুরবিপ্রবি ছাত্র ও দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে, এই হাস্যকর এবং নিন্দাজনক পদক্ষেপ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরও জানান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একই নামে আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হচ্ছে, যা বাংলাদেশ বা দেশের বাহিরের ইতিহাসে কখনো দেখা যায় নি। যা আমাদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রদানে বাধা সৃষ্টি করছে এবং এর মাধ্যমে আমরা অস্তিত্ব সংকটে ভুগছি।

এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য এ. কিউ. এম মাহবুব বলেন, আমি এ বিষয়ে শুনেছি কিন্তু প্রতিবাদ করিনি কারণ এটি উপর মহলের ব্যাপার।আরেকটা ব্যাপার একইনামে একই জেলায় দুই বিশ্ববিদ্যালয় হলে সমস্যা কিন্তু একই নামে অন্য জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে সমস্যা সৃষ্টি হয় না। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত দিতে পারে।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today