রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০১:৪০ অপরাহ্ন

করোনাকালে রাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যত উদ্যোগ, নেই শুধু গবেষণা

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০, ৪.৫৯ পিএম

রাবি প্রতিনিধি


করোনাভাইরাসের সংকট মোকাবেলায় সচেতনতার বিকল্প কোনো পথ আবিষ্কৃত হয় নি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষেও বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলায় প্রয়োজন সকলের সচেতনতা ও সহায়তা।

সেই ধারাবাহিকতায় সচেতনতা ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে এক কোটি টাকা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একদিনের বেতন মানুষের সহায়তায় প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খান।

তবে স্কোপাসের জরিপে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে গবেষণায় শীর্ষ থাকা এই প্রতিষ্ঠানটির ঘাটতি রয়েছে গবেষণায়। দেশের এই সংকটের মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো গবেষণায় ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। গবেষণার কার্যক্রম নানা রয়েছে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ভূমিকায়। একমাত্র ফার্মেসী বিভাগের স্যানিটাইজার তৈরি ব্যতিত আর কোনো প্রদক্ষেপের খবর পাওয়া যায় নি। যদিও ফার্মেসী বিভাগ, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞানসহ বেশ কয়েকটি বিভাগকে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা ছিলো সকলের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশিক মোসাদ্দিক বলেন, এই বিষয়ে কাজ সুযোগ অবশ্যই আছে। আমাদের বিভাগেরই অনেক শিক্ষক আছেন যারা মলিকুলার বায়োলজি ও জেনেটিক্স বিষয়ে অভিজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কর্তৃপক্ষ যদি চায় তাহলে আমরা চেষ্টা করবো কিছু কাজ করার। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইরাস ডিটেকশন করার মতো সুযোগ এখন পর্যন্ত আমাদের নাই, সরকার যদি আমাদের এখানে ল্যাব করে দেয় তাহলে আমাদের সেই সক্ষমতা আছে যে আমরা জিনোম সিকোয়েন্স থেকে শুরু করে ভাইরাস ডিটেকশন করা বা এ নিয়ে আরো গবেষণা করতে পারবো।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জেলা সমিতির ব্যানারে পঞ্চগড়, কিশোরগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি মাস্ক ও স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ করছেন বলেও জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রীও বিতরণ করছেন অনেকে। এছাড়া চিত্রকল্পের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে আঁকাআকির মাধ্যমে সচেতনতার সৃষ্টি করছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কিশোরগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন জানান, নিজের গ্রামে সকলের সহায়তায় অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিতরণ করা হচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী। এছাড়া জেলা সমিতির পক্ষ থেকে মাস্ক, লিফলেট বিতরণসহ সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। এভাবেই যদি প্রত্যেকে এগিয়ে আসে তবে সংকট মোকাবিলা সম্ভব।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত অধিকাংশ নেতাকর্মীকেই মানুষের সহায়তায় পাশে দাড়াতে দেখা যাচ্ছে৷ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে রাজশাহীর নওহাটায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সহ-সভাপতি মাহ্ফুজ আল-আমিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশুর নিজ উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া শাখা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব নিজ উদ্যোগে রাজশাহীতে ১০০ পরিবারে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও মহানগরীতে করোনা রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। তবে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো রয়েছে নিস্ক্রিয় ভূমিকায়।

সংকটকালের এসব কার্যক্রমের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও গুজব দমন কমিটির সভাপতি মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘দেশের জন্য করোনা একটি বিরাট সংকট। যা মোকাবেলা করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার একা পারবে না। তাই সকলের উচিত নিন্দা অথবা সমালোচনা না করে সংকটের মোকাবিলা করা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে এগিয়ে আসছে তাতে মনে হয়েছে যে তারা আসলেই শিক্ষিত আচরণ করছে এবং দেশের জন্য লড়তে জানে’।

লকডাউনে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতেই দেখা গেছে একটু ব্যতিক্রম একটি উদ্যোগ। ক্যাম্পাসের অভুক্ত ও অসহায় প্রাণীদের পাশে দাড়িয়েছেন এক শিক্ষকসহ তিন শিক্ষার্থী। যদিও তাদের সহায়তা করছেন অনেকে। জানা গেছে, করোনা সংক্রমণরোধে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে ক্যাম্পাসের কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীরা। ক্যাম্পাস খোলা থাকলে শিক্ষার্থীদের দেয়া খাবারেই এরা বেঁচে থাকে। শিক্ষার্থীবিহীন ফাঁকা ক্যাম্পাসে অসহায় হয়ে পড়েছে এই প্রাণীরা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী- প্রসেনজিৎ কুমার ও মাহমুদ সাকি এবং এপোলোর উদ্যোগে ক্যাম্পাসের কুকুর ও বিড়ালগুলো দুই বেলা খাবার পাচ্ছে। এই তিনজন মানুষের প্রতিনিয়ত তদারকি করছেন ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক কনক পিকে।

এই বিষয়ে প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, এই দুর্যোগে মানুষের পাশাপাশি মানুষের ওপর নির্ভরশীল প্রাণীরাও অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমাদের এই উদ্যোগ। প্রতিদিন আমরা প্রায় অর্ধশত কুকুর ও বিড়ালকে খাবার দিচ্ছি। ক্যাম্পাস না খোলা পর্যন্ত এটি চলতে থাকবে। তবে তাদের নিজেদের পক্ষে প্রতিদিনের খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তাই তাদের এই উদ্যোগে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today