রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

কুবিয়ানদের ‘সমাবর্তন ভাবনা’

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১০.০১ পিএম
কুবিয়ানদের সমাবর্তন ভাবনা
দ্য ক্যাম্পাস টুডে

দীর্ঘ এক যুগ পর অনেক আলোচনা সমালোচনা পেরিয়ে আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম সমাবর্তন। একঝাঁক গাউন পরা গ্রাজুয়েটে ভরে যাবে পুরো ক্যাম্পাস। রাষ্ট্রপতির আগমন সহ নানা আয়োজন ক্যাম্পাসকে রঙিত করবে। আনন্দে উচ্ছ্বাসে মাতবে পুরো ক্যাম্পাস। সমাবর্তন নিয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেনদ্য ক্যাম্পাস টুডে‘র কুবি প্রতিনিধি মুহাম্মদ ইকবাল মুনাওয়ার।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাযাত্রার চুড়ান্ত গন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়। এ অভিযাত্রার স্বীকৃত পরিণতি ঘটে সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে। তাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক গ্রাজুয়েটের নিকটই ‘সমাবর্তন’ এক পরম-আকাঙ্ক্ষিত আয়োজন। আমার ক্ষেত্রেও এর আবেদন অভিন্ন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন প্রথম সমাবর্তন নিয়ে অধিকাংশের মত আমারও অনেক প্রত্যাশা ছিল, আছে। তবে নানাবিধ পারিপার্শ্বিকতা ও সীমাবদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে সব সময় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পূর্ণ সমন্বয় অনেক সময় সম্ভবপর হয়ে উঠে না কিন্তু দু’একটি অপ্রাপ্তিকে মূল বিবেচ্য গণ্য করে সমাবর্তনের অসংখ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে চাই না।

সহপাঠী, শিক্ষক, জুনিয়র ভাই-বোনসহ সকলের সাথে আনন্দঘন মিলন হবে লাল পাহাড়ের সবুজ ক্যাম্পাসে, এটাই হবে সমাবর্তনে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক ও যথাযথ ভূমিকা পালন এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রথম সমাবর্তনটি সার্বজনীন, সাবলীল ও সার্থক হয়ে উঠবে -এমনটাই প্রত্যাশা।


আহসান হাবীব
প্রথম ব্যাচ
একাউন্টিং এণ্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ
প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

অপেক্ষার পালা শেষ হতে যাচ্ছে,বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে দীর্ঘ দিনের লালায়িত স্বপ্ন।প্রতিষ্টার পর থেকে প্রথম সমাবর্তনের দ্বারপ্রান্তে প্রাণের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। শত শত গ্রাজুয়েটদের আগমনে দিনটি হয়ে উঠবে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন,প্রাপ্তির দিন।মিলনমেলার এ দিনে কালো গাউনটি লাল-মাটি বেষ্টিত সবুজ ক্যাম্পাসের মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দিয়ে দিনটিকে স্মরনীয় করে রাখতে চাই।অবনত মস্তকে স্মরন করতে চাই আমার পরিবার সহ সেসকল মহান ব্যক্তিদের অবদান যাদের জন্য আমি আজ গ্রাজুয়েট,যাদের কারনে শত শত গ্রাজুয়েটদের বাঁধভাঙা উল্লাস আর আনন্দে সামিল হতে পারছি।

যেহেতু সমাবর্তন মাধ্যমেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্নতা লাভ হয় তাই আশা করছি সমাবর্তনের প্রধান বক্তা হিসেবে একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয়, বিশ্ববরেণ্য এবং খ্যাতিমান বক্তাকে নির্বাচিত করা হবে।

কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি সমাবর্নের পিছনে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। সর্বোপরি, সকল গ্রাজুয়েটদের সমাবর্তনে অংশগ্রহনের আহবান এবং সমাবর্তনের সফলতা কামনা করছি।


মো. রাসেল মিয়া
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস [শিক্ষা ক্যাডার]
প্রভাষক, জাকিগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ৩য় ব্যাচ, ইংরেজি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন হবে এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কিন্তু প্রথমবারের মত কুবিয়ানরা সমাবর্তন পাচ্ছে সেটা নিঃসন্দেহে অন্যরকম ভালো লাগার। প্রথম বারের মতো মহামান্য রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে এসে আমাদেরকে গ্র‍্যাজুয়েট ঘোষণা করে করবে এটা ভেবেই ভালো লাগছে।সমাবর্তনের গিফট কস্টিউম নিয়ে সংবাদ বিবৃতি দেখে ভালোই লাগছে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সীমাবদ্ধতা থাকবেই তবে গ্র‍্যাজুয়েটরা তাদের সাথে বাবা অথবা মা অথবা এরকম অন্তত একজন অতিথির রেজিষ্ট্রেশন এর মাধ্যমে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করে দেওয়া যেত যা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে আসছে। কারণ প্রতিটা গ্র‍্যাজুয়েটই তার পরিবারকে তার আনন্দের অংশীদার করতে চায়। সকল বিতর্কের উর্দ্ধে যেয়ে একটি সফল সমাবর্তন হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

ওবায়দুল হক
৭ম ব্যাচ, গণিত বিভাগ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক সভাপতি, সায়েন্স ক্লাব কুবি।

সমাবর্তন নিয়ে স্বপ্নের জালবোনা সেই স্নাতক জীবনের শুরুর দিন থেকেই। কেতাবি শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে গুরুগৃহ থেকে ফিরে কেউ গার্হস্থ্য জীবনে আবার কেউবা কর্ম জীবনে প্রবেশ করেছি। সবকিছু ছাপিয়ে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন “ফ্ল্যাগ-বিয়ারার” হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি আমরা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন এম্বাসেডর হিসেবে আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়টির আসন্ন সমাবর্তন উৎসবমুখর হোক। প্রাক্তনদের পদচারণায় আন্দোলিত হোক লাল মাটির প্রিয় ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের প্রতিটি পাহাড়ি টিলা, বালুকণা জেনে যাক যে তাদের লালিত সন্তানেরা ভুলে যায় নি তাদের কাছে ঋণের কথা।

সমাবর্তন অনুষ্ঠান যে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান হবে না সে আকাঙ্খা রাখতেই পারি। আমন্ত্রিত বক্তাদের উঠে আসার গল্প নয় বরং তাদের জীবনবোধ ও দর্শন আলোকিত করুক প্রতিটি প্রাণ। প্রাক্তনরাই যেহেতু সমাবর্তনের প্রাণ কাজেই তাদের মতামত ও গঠনমূলক সমালোনা প্রশাসন গুরুত্বের সাথে দেখবে আশা করছি। প্রাক্তনদের সম্মানার্থে এ মঞ্চ থেকেই ঘোষণা আসুক সিন্ডিকেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি রাখার বিষয়টি। পরিশেষে, কুবির প্রথম সমাবর্তন সুপরিকল্পিত ও প্রাণবন্ত হোক সে প্রত্যাশা সবসময়।


আব্দুল্লাহ-আল-মুসাইব
প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ৬ষ্ঠ ব্যাচ, ইংরেজি বিভাগ,
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ই ন্ডিয়ান পার্টিশন রিসার্চার।

গায়ে সমাবর্তনের গাউন জড়িয়ে, আকাশের দিকে মাথার হ্যাট ছুড়ে মারার যে অনুভূতি, তার স্বাদ নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীই স্বপ্নে জাল বুনতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ গাম্ভির্যপূর্ণ এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি হাত থেকে পাওয়া ওই এক টুকরো কাগজ একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের শ্রম,মেধা এবং অধ্যবসায়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না, এই সমাবর্তনের জন্য একজন শিক্ষার্থী কতটা উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করে। যেহেতু সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপক্বতারও পরিচায়ক, তাই নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন নিয়ে নিঃসন্দেহে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মতো আমিও রোমাঞ্চিত।

আদনান কবির সৈকত
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক সভাপতি, ডিবেটিং সোসাইটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today

নতুন পেজে যুক্ত হতে The Campus Today New Page ক্লিক করুন

আমাদের আগের পেজটি হ্যাকড হয়েছে, নতুন পেজে যুক্ত হতে The Campus Today New Page ক্লিক করুন

আমাদের আগের পেজটি হ্যাকড হয়েছে, নতুন পেজে যুক্ত হতে The Campus Today New Page ক্লিক করুন

This will close in 5 seconds