রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০১:২৯ অপরাহ্ন

ছাত্রলীগের ‘নাম ভাঙ্গিয়ে’ কাদের নিয়োগ দিলেন রাবির বিদায়ী উপাচার্য?

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১, ১১.৫৮ এএম

 

রাবি প্রতিনিধি

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের(রাবি) বিদায়ী ও বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ছাত্রলীগের ‘নাম ভাঙ্গিয়ে’ বিতর্কিত এক নিয়োগ কাণ্ড ঘটিয়ে গেলেন।

নিয়োগে ছাত্রলীগের কথা বললেও ১৪১ জনের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান, সাবেকসহ আশেপাশের বিভিন্ন শাখা ছাত্রলীগের ৪৩ জনের বেশি ছাত্রলীগের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ।

অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়ঙ্কর রকমের এক নিয়োগ বাণিজ্য করে গেলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবাহান।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ ছাত্রলীগের চাকরিপ্রাপ্ত নেতারা। এছাড়াও দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতাদের অধিকাংশকে তৃতীয় শ্রেণীর পদে চাকরি দিয়ে তাদেরকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এসব পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতারা কেউ কেউ আবার চাকরিতে যোগদানও করেননি।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাদিকুল ইসলাম স্বপন জানান, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেছি। তারপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে মাস্টার ডিগ্রী অর্জন করেছি। তারপরও আমাকে নিম্নমান সহকারীর একটি তৃতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমি মনে করছি, এটা আমাকে এবং ছাত্রলীগকে অপমান করার একটি কৌশল। সে কারণে আমি চাকরিতে যোগদান করিনি। আমার মতো অধিকাংশ নেতাকেই এভাবে অপমান করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনোমি এন্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের ফারুক হাসান নামের এক ছাত্রলীগের সহ-সভাপতিকে উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অথচ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। স্নাতকে ফোর ফাস্ট ক্লাস পাওয়ার পরও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উচ্চমান সহকারি পদে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের আহ্বায়ক অধ্যাপক সুলতানুল ইসলাম টিপু বলেন, বিদায় উপাচার্যের ছিল এটা একটা অপকৌশল। ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি মূলত নিয়োগ বাণিজ্য-ই করে গেলেন।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়াদ শেষে যাবার আগে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক আবদুস সোবহান যে শতাধিক অস্থায়ী নিয়োগে সই করেছেন, সেই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তান-স্ত্রী-স্বজন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে একাধিক সাংবাদিক নেতাও রয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৬ মে) নিয়োগের জন্য প্রস্তুতকৃত ভিসির সই করা কাগজগুলো বাংলাদেশ প্রতিদিনের হাতে এসেছে। সেই তালিকা ধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এসব তথ্য।

যদিও গতকাণ সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই নিয়োগকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

তালিকা থেকে থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিবারের ৩ জন সদস্য শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। যে বিভাগগুলোতে নিয়োগ দেখানো হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জানে না সেই বিভাগের প্লানিং কমিটিও। এর বাইরে কর্মকর্তা পদেও নিয়োগ পেয়েছেন একাধিক শিক্ষকের স্বজন।

শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলা বিভাগের খন্দকার ফরহাদ হোসেনের ছেলে ঋত্বিক মাহমুদ। যিনি সংগীত বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগ তালিকায় ৫ নম্বরে নাম তার। খন্দকার ফরহাদ হোসেন লেখালেখির জগতে অনীক মাহমুদ নামে পরিচিত।

বিভাগীয় প্লানিং কমিটি থেকে ঋত্বিক মাহমুদের নিয়োগের সুপারিশ গেছে কি না সেবিষয়ে জানতে চাইলে সঙ্গীত বিভাগের প্লানিং কমিটির সদস্য পদ্মীনি দে বলেন, “নিয়োগ নিয়ে বিভাগীয় প্লানিং কমিটির কোনো সভা হয়নি। কীভাবে নিয়োগ দিয়ে গেছেন উপাচার্য সেইটা সবাই জানেন।”

ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র-এর ছেলে ইন্দ্রানিল মিশ্র। নিয়োগ তালিকার ৩ নম্বরে আছে তার নাম।

এছাড়া দুই শিক্ষকের স্ত্রী নিয়োগ পেয়েছেন আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং-এর সহযোগী অধ্যাপক (আইটি) হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলামের স্ত্রী ড. সাবিহা ইয়াসমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কলেজ পরিদর্শক ও অধ্যাপক ড. আব্দুল গণি এর স্ত্রী ফারহানা একরাম নিয়োগ পেয়েছেন তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে। সহকারী আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন রিয়াজির স্ত্রী বুরুজ ই জোবাইরা।

শেষ সময়ের এই নিয়োগে অধ্যাপক আবদুস সোবহান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ জন সাংবাদিকের নিয়োগপত্রেও সই করেছেন।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today