জীবিকার সন্ধানে ঢাকামুখী হচ্ছে গ্রামীণ তরুণেরা

জীবিকার সন্ধানে ঢাকামুখী হচ্ছে গ্রামীণ তরুণেরা

মাজেদুল ইসলাম


জীবন ও জীবিকা এই নিয়ে মানবসভ্যতা গঠিত।মানুষ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা প্রাণী জীবিকার তাগিদে পথে প্রান্তরে ছুটে বেড়ায়।

৩য় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দারিদ্র্য যেন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে এ দেশের জনগোষ্ঠীকে। বিশ্বায়নের যুগেও দারিদ্র্যতাকে ছুটি দিতে পারে নি এদেশের প্রান্তিক লেভেলের জনগোষ্ঠী।তার উপর প্রাকৃতিক দূর্যোগ তো আছেই দারিদ্র্যকে পুঁজি করে জীবন কাটিয়ে দেয়ার সহায়ক রুপে।

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ।এর শতকরা ৭৫ ভাগ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত।তবে শিক্ষা ব্যবস্হার অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নামমাত্র।

বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে উচ্চশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা।দারিদ্র্য যার নিত্যসংগী তাদের এত্ত টাকা পয়সা খরচ করে পড়াশোনা খরচ করা বিলাসিতা ছাড়া কিছু নয়।গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ অশিক্ষিত হওয়ায় গ্রামীন মানুষের প্রধান পেশা কৃষি এখনও হাল আমলের।তাছাড়া মধ্যস্হভোগীদের দৌড়াত্মে কৃষকরা তেমন লাভের মুখ ও দেখতে পায় না।

কৃষিতে এ বেহাল দশার দরুণ গ্রামীণ অশিক্ষিত কিশোর, তরুনেরা পাড়ি জমাচ্ছে বিশ্বের জনবহুল ও অস্বাস্হ্যকর শহরগুলোর অন্যতম বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বুকে।

এসব কিশোর,তরুণেরা মূলত ঢাকায় বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন ও গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করে থাকে।তারা এসব নির্মানাধীন বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাসের পর মাস দিনাতিপাত করে।
বাংলাদেশের প্রায় ৬৮০০০ গ্রামের প্রায় প্রত্যেকটা পরিবার থেকেই কিছু না কিছু লোক ঢাকায় গিয়ে ভিড় জমাচ্ছে।

আমরা জানি,ঢাকায় প্রায় ২ লাখ লোক ভাসমান অবস্হায় জীবন অতিবাহিত করে।আর প্রতিবছর এ হার বেড়েই চলতেছে।

অশিক্ষিত তরুণদের কথা না হয় একটু বাদই দিলাম।যারা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতেছে বা করার দিকে হাটতেছে তাদের কি অবস্হা???

আমরা জানি,৬ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় , প্রায় ৯০ টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়,প্রায় ৫০ টি কলেজের প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে ঢাকা শহরে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতি বছর পাড়ি জমায় এ শহরে।

ঢাকা শহরে যোগাযোগ ও জীবনব্যবস্হা সহজবোধ হওয়ায় অন্যান্য বিভাগীয় শহরের তুলনায় ঢাকায় থাকার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি জনমানুষের মধ্যে।

তাছাড়া বেশিরভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো ঢাকায় অবস্হিত হওয়ায়, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা ঢাকাতেই থাকার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে।

ফলে বাড়ছে প্রতিনিয়ত জনসংখ্য।নস্ট হচ্ছে বসবাসযোগ্য পরিবেশ।বাড়তেছে বস্তি,ভাসমান লোকের সংখ্যা বাড়তেছে অগনিতভাবে। ফলে বর্তমানে বিশ্বের মধ্য বসবাসের দিক দিয়ে নিকৃষ্টতমের তালিকায় ২য় স্হানে।

এমতাবস্থায় আমাদের বিভাগীয় ও জেলাশহরগুলোতে ঢাকার মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্হাপন করা অতীব জরুরী।নাগরিক সকল চাহিদা যদি আমরা এসব শহরগুলোতে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে ঢাকাকে স্বাস্হ্যকর ও বসবাসযোগ্য শহরে প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।

যারা গ্রামীণ অশিক্ষিত কিশোর- কিশোরী ও তরুণ তরুণী তাদের জন্য এলাকাভেদে কর্মমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করতে পারি যাতে তারা গ্রাম বা জেলাশহরগুলোতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।মধ্যস্হভোগীদের দৌড়াত্ম কমিয়ে কৃষক পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যায়ের মধ্য সহজ যোগাযোগের পন্হা তৈরী করা।বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির অবদানে ই-লার্নিং,ই- কমার্স, টেলি- মেডিসিন,কৃষি সেবা,রাইড শেয়ারিং প্রশংসার দাবিদার।

প্রত্যেকটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে ল্যাবসমৃদ্ধ উন্নতমানের বিদ্যাপীঠ তৈরী করা,শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো এক জায়গায় গুচ্ছিভূত না করে সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তরে স্হাপন করা যাতে জনগণ সব জায়গায় সমান অনুপাতে বাস করতে পারে এবং ঢাকার এ চাপকে প্রশমিত করতে পারে।

এছাড়াও জেলাশহরগুলোতে এক্সপোর্ট প্রজেক্টিং জোন (ইপিজেড) তৈরী করা যাতে বিপুল পরিমাণ জনগণকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসম্পদে রুপান্তর করতে পারি এবং বেকারত্মের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়ে দারিদ্র বিমোচনে কয়েক ধাপ এগোতে পারি।
মনে রাখবেন গ্রামীণ অশিক্ষিত তরুণেরা পরিবার পরিজন ছেড়ে ঢাকামুখী হয় শুধুমাত্র জীবিকার তাগিদে!!

সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি, যদি বাংলাদেশের জনগণকে শিক্ষিত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত করার মাধ্যমে এবং ঢাকা শহরের স্হাপনাগুলো বিভাগীয় ও জেলাশহরগুলোতেও বেশি বেশি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এবং নাগরিক সুবিধা জেলা,উপজেলা, গ্রামীণ লেভেলে আনতে পারলে ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা
কমবে। ফলে আমাদের ঢাকা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে আগামীর দিনগুলোতে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সর্বস্তরের উন্নয়নের বিকল্প নেই।এক ঢাকাকে নিয়ে বেশিদূর আগানো সম্ভব না!!

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *