শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৫:০০ অপরাহ্ন

নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের গল্প

  • আপডেট টাইম রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০, ১.৪৬ এএম
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের গল্প
ছবি- সংগৃহীত

মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই যখন দেখি আমার পাশের বেডের ছেলেটার সব মিলিয়ে মাসিক খরচ মাত্র ৩০০০ টাকা । আর এই ৩০০০ টাকা কোথা থেকে আসে জানেন ? ওই দূরে কোন একটি বাসার কোন এক ছাত্র কে পড়িয়ে।

ছেলেটার বাসা সেই নিভৃত পল্লীতে । বাবা গরিব কৃষক । মাঝে মাঝে যখন ভর্তি ফি কিংবা অন্য কারনে বেশি টাকার প্রয়োজন হয় ছেলেটা বেশ ইতস্তত করে দরিদ্র পিতার কাছে টাকা চাইতে । বাবা হয়তো বাড়ীর কোন একটা ছাগল বিক্রি করে টাকাটা পাঠায় । ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে । একদিন নিশ্চয়ই ছেলে বড় অফিসার হবে, সেদিন হয়তো এই দুর্দিন থাকবে না । এজন্যে কষ্ট করে টাকা পাঠাতেও কষ্টটাকে কষ্ট মনে হয়না পিতার ।

ছেলেটার শার্ট মাত্র দুইটা । সেই দুইটা শার্ট চলছে বহুদিন । বন্ধুরা সবাই যখন এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করে তখন মাঝে মাঝে রাস্তায় সবাই মিলে এটা সেটা খায় । তাকে অনেকেই সাধাসাধি করে , সে নানা অজুহাত দেখায় । বিলাসিতা করার তার সুযোগ নেই । সন্ধ্যা হয়ে গেলে মাঝে মাঝে ছেলেটা একা একা হাটতে বের হয় । ক্যাম্পাসের নানা ধরণের মানুষগুলোর উচ্ছাস আর হাসিমুখ দেখে নীরবে । ক্যাম্পাসে এসে ছেলেটার মাঝেমাঝে মনে হয় আহা মানুষের জীবনগুলো কত আনন্দের ।৫ টাকার একটা পাকোড়া খেয়ে মাঝে মাঝে চলতে হয় তাকে । বন্ধু , বড় ভাই গুলো এতো ভালো কেন ? এদের জন্য মাঝে মাঝে জীবন দিতে ইচ্ছা হয় ছেলেটার ।

গ্রাম থেকে আসা ছেলেটার মুখের ভাষা থেকে আঞ্চলিকতার ছাপ গুলো ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে । বাবা মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনে জানতে চায় ছেলের কোন সমস্যা আছে কিনা । ছেলেটা হাসে আর বাবাকে আশ্বাস দেয় “না বাজান সমস্যা নাই”

একদিন কথাচ্ছলে যখন জানতে চাইলাম জীবনের লক্ষ্য কি ? ছেলেটা ফিক করে হেসে দিলো । শুধু বলল, আপাতত পরিবারটাকে একটা শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে চায় । আমি জানি, এই ছেলেটা একদিন অনেক বড় হবে ।
“দেশে এখনো এরকম বিদ্যাপীঠ আছে যেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দরিদ্র ছেলেরা এসে পড়তে পারে । এটি না থাকলে যে কি হতো”।

যখন খুব হতাশ হয়ে পড়ি , জীবন নিয়ে শঙ্কাগ্রস্থ হই তখন এই বন্ধুগুলোর দিকে তাকাই । কত সংগ্রাম করছে তারা জীবনে দাঁড়ানোর জন্য । মাঝে মাঝে নিজেকে নিয়ে গর্বও হয় যে আমি এরকম ফাইটারদের সাথে পড়াশোনা করি । আশা ফিরে পাই এই ভেবে যে এদের দেখে হয়তো একদিন কিছু একটা তো হতে পারবো ।

এই ছেলেটার গল্পটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকের জীবনের সাথে মিলে যাবে , জীবন যুদ্ধের এই গল্প গুলো লেখা হয় ছোট ছোট রুমে কিছুটা সময় নিয়ে, এ ধরনের গল্পগুলো সব অপ্রকাশিত থাকে যায় কিন্তু যেদিন প্রকাশিত হবে, সেদিন ওই ছেলেটা অনেক বড় হয়ে যাবে।


গল্পটি ফেসবুক পেজ “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস”   থেকে নেওয়া। 

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today