বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

পুরনো সেই দিনের কথা

  • আপডেট টাইম বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১, ১১.০২ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪২৬ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ উদযাপন / ছবি: সিয়াম চৌধুরী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪২৬ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ উদযাপন / ছবি: সিয়াম চৌধুরী

ইসরাত জাহান


“পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।”

রবীন্দ্রনাথের সেই গানটি মনের অজান্তেই যেন গুনগুন করে গেয়ে উঠছে। মনে হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের সেই গান আজকের জন্য ই লিখা হয়েছিল।

আজ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা বৈশাখ।বাংলা সনের প্রথম মাস বৈশাখ, এই বৈশাখ মাসের প্রথম দিন উদযাপিত হয় বলে বাংলা নববর্ষের অপর নাম ‘পহেলা বৈশাখ’। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের বাঙালিরা এই দিনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়, ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে অতীত বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি। এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে আমাদের এই বাংলাদেশ ৫০ বর্ষে পর্দাপণ করেছে। দেশের এই সুদীর্ঘ পথ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলার পেছনে রয়েছে শত শত শহীদ, বুদ্ধিজীবী সহ বাংলার ৩০ লক্ষ মানুষের সংগ্রামের অবদান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে উদযাপন হয়েছে। তবে দেশের এই সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে নেই সে আমেজ, নেই সেই উদ্দীপনা।

দেশের এই সুন্দর পথ চলার দিনগুলোতে আজ পহেলা বৈশাখ উদযাপন যেন একটি স্মৃতি ছাড়া কিছু না। নেই সেই ভোরবেলায় পাখিদের কলরবে জেগে উঠার তাড়া, নেই রাস্তায় পাঞ্জাবি আর লাল – সাদা শাড়ি পরে একসাথে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাওয়ার তাড়া। নেই সেই রমনার বটমূলে বসে ছায়ানটের উৎসব, নেই পান্তা ইলিশ খাওয়ার তাড়া। সবকিছু যেন একটি স্থিরচিত্রের মতো রূপ ধারণ করে নিয়েছে।

অথচ আজ দেশের দীর্ঘ ৫০ বছরের পথচলা পরিক্রমার ইতিহাসে আমাদের পহেলা বৈশাখ ও কত ধুমধামে উদযাপন করার কত আশা ছিল যা হয়ত স্বপ্ন ই থেকে যাবে। আজ যেন রবীন্দ্রনাথের সেই গানের লাইনই বার বার মনে পড়ে, পহেলা বৈশাখ আজ সেই পুরনো দিনের কথা বৈকি কিছু ই নয়। নেই কোলাহল, নেই চারিদিকে উৎসব উৎসব রব। নেই সাংগ্রাই, বিজু উৎসব।

আজ মনে পড়ে যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সেই দিনগুলোর কথা। বন্ধু বান্ধবীরা মিলে সকাল সকাল সেজেগুজে এসে মঙ্গলশোভাযাত্রায় যাওয়া, সকলের মিলিত এককণ্ঠে গাওয়া-

“এসো,হে বৈশাখ,
এসো, এসো।”

প্রতিটি বিভাগ সজ্জিত হত ফুলে ফুলে। চারদিকে উৎসব উৎসব রবাহূত। সকলের প্রচেষ্টায় আয়োজিত হত বৈশাখী মেলা, সব বিভাগের খাবার দাবারের স্টল, সারাদিন ব্যাপী গান আড্ডার অনুষ্ঠান এবং বাঙালির সেই প্রাণের রীতি “মাছে ভাতে বাঙালি” সেই অনুসারে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার আয়োজন! এগুলো আজ যেন একটি স্মৃতি হিসেবে পড়ে আছে মনের কোনো এক অজানা স্থানে…..

করোনা ভাইরাস তথা কোভিড-১৯ এ ধমকে রয়েছে সারাবিশ্ব ;সেই সাথে আমাদের এই প্রাণভূমিও। দীর্ঘ একটি বছর গৃহবন্দী দিন কাটাচ্ছে পৃথিবীর মানুষগুলো। অবরুদ্ধ থাকতে থাকতে মানুষ গুলো যেন হাঁপিয়ে উঠেছে। সেই সাথে প্রাণও হারিয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। করোনা প্রার্দুভাবের কারণে জীবন এখন উৎসবহীনতায় রূপ নিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, খেলাধুলা সহ সকল ধরনের জনকোলাহল বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ একটি বছর। জাতি এতটা নিরব বৈশাখ কখনো দেখেনি।

পহেলা বৈশাখ এমন একটি উৎসব যা জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সবাই পালন করত। পুরনো দিনের সকল লেনা দেনা ভুলে উৎসবে মেতে উঠত গোটা দেশ। ব্যবসায়ীরা আয়োজন করত সেই চিরচেনা “হালখাতা উৎসব “। চৈত্র কে বিদায় দিয়ে নতুন বৈশাখকে আপন করে নিতে অপেক্ষা করছে সকল স্তরের মানুষ। সুদিনকে বরণের অপেক্ষায় জাতি!

তাই সেই সুর টেনে বলি-

“সুদিন কাছে এসো, ভালোবাসি”
বলি সেই পুরনো স্মৃতি আবার উজ্জীবিত হোক প্রাণের উৎসব হয়ে, স্পন্দিত হোক প্রতিটি বাঙালি হৃদয় সেই বৈশাখের ডাকে!

লেখকঃ উপ-দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, কুবি ও শিক্ষার্থী,বাংলা বিভাগ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today