শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম চির অম্লান

  • আপডেট টাইম রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১, ২.৩৪ পিএম
Over half a million people lined up on the road from the airport to Shahbagh to welcome the leader home Mujib100.gov.bd
Over half a million people lined up on the road from the airport to Shahbagh to welcome the leader home Mujib100.gov.bd

মোঃ রাইয়ান জিহাদ

‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই/ তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা/ আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।’ বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

জাতি আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ৪৬ বছর আগে ৭৫’এর ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী একদল ঘাতকের হাতে তার নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল জাতির ইতিহাসে এক বড় কলঙ্ক।

বস্তুত বাঙালি, বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু সমার্থক। তিনটি শব্দ একই সুতোয় গাঁথা। বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল বাঙালিকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে পরিচিত করতে, বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। বাঙালি জাতীয়তাবাদকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে। সেখানে তিনি পুরোপুরি সফল। তার কল্যাণেই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ, একটি মানচিত্র, একটি পতাকা। আর এ কারণেই তিনি বাংলার মহানায়ক। বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা। জাতির পিতা। তিনি বাঙালি জাতির ইতিহাসে চির অম্লান।

সেই রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকেরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালসহ পরিবারের ১৭ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন।

এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে বছরের পর বছর এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ থাকা ছিল আইনের শাসনের পরিপন্থী। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছে ফেলার প্রক্রিয়াও নানাভাবে চালানো হয়েছে।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, চেতনা, বিশ্বাসকে নস্যাৎ করার এ অপচেষ্টার পুরোটাই ভেস্তে যায়, যখন আমরা দেখতে পাই- বিবিসির জরিপে রবীন্দ্রনাথ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানীর মতো ব্যক্তিত্বকে ছাপিয়ে বঙ্গবন্ধুই নির্বাচিত হন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তার সাত মার্চের ভাষণ পায় বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি।

ইতিহাসে যার স্থান সুনির্দিষ্ট ও স্বীয় মহিমায় সমুজ্জ্বল, তাকে অস্বীকারের মূঢ়তা বিভিন্ন সরকারের আমলে কম দেখানো হয়নি। এতে করে স্বল্পকালীন সুবিধা হাসিল করা গেলেও চূড়ান্ত বিচারে তা সফল হয়নি। বরং শহীদ বঙ্গবন্ধু দিনের পর দিন হয়ে উঠেছেন আরও শক্তিশালী। জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় অবদানই তাকে অজেয় করে রেখেছে।

দেশের স্থপতি ও নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে তার পরিবারের সদস্যসহ এমন ভয়াবহভাবে হত্যার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশ ও জাতিকে বিপথগামী করার অপপ্রয়াস চালানো হয় পরবর্তীকালেও।

হত্যাকারীদের বিচার থেকে রেহাই দিয়ে জারি করা হয় কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। সেই অধ্যাদেশ বাতিলের পর দেরিতে হলেও বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। গত বছরও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর অন্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এই পলাতক খুনিদের দেশে এনে তাদের শাস্তি কার্যকর করা সরকারের দায়িত্ব।

বলা যেতে পারে, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে চলছে দেশ। ঘাতকরা তাকে খুন করলেও তার সেই আদর্শ আজ প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর দেহ ঘৃণ্য পশুরা কেড়ে নিতে পারলেও নিতে পারেনি আদর্শকে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব। তাই ৪২ বছর পরও বাঙালি জাতি কৃতজ্ঞতা-শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত করে বঙ্গবন্ধুকে। তারই রক্তে ধোয়া বাংলায় আবারও যুথবদ্ধ মানুষ। শ্রদ্ধায় স্মরণে পথে প্রান্তরে আজও ওঠে সেই সম্মিলিত রণধ্বনি- ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। এক মুজিব লোকান্তরে লক্ষ লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে।

বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনে একটিই ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা ছিল বাংলা এবং বাংলার মানুষকে অত্যাচারী শাসকের জুলুম থেকে মুক্ত করা।

বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন কাম্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেশ ও জাতির সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে তার আপন মহিমায় প্রতিস্থাপন করা হলে জাতি হিসেবে সবাই গৌরবান্বিত হবে।

বঙ্গবন্ধু নিঃসন্দেহে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সব ধরনের জুলুম, আত্যাচার, নির্যাতন বরণ করে নিয়েছেন। তিনি আমাদের প্রগতিবাদী অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করাই হবে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সর্বোত্তম উপায়।

পরিশেষে কবির ভাষায় বলতে চাই-

‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান

ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’

লেখক: শিক্ষার্থী, মোল্লাকান্দি লালমিয়া পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today