বিদায় বেলায় ভালোবাসায় সিক্ত উপাচার্য, পুনঃনিয়োগের দাবি

বিদায় বেলায় ভালোবাসায় সিক্ত উপাচার্য, পুনঃনিয়োগের দাবি

ইবি প্রতিনিধি


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার যোগদান সেই ১৯৯০ সালে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে। এরপরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৬ সালের ২১ আগস্ট তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী’ই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম উপাচার্য যিনি গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার তার চার বছরের মেয়াদকাল পূর্ণ করেছেন।

আসলেন, দেখলেন, জয় করলেন। অনেকটা রূপকথার গল্পের নায়কের মতোই তিনি আঞ্চলিক এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এসেছেন আন্তর্জাতিক পরিসরে। বিদায় বেলায় তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার করেছেন একটি আবেগঘন স্টাটাস।

আর এতেই যেন হাজার হাজার কমেন্ট আর শেয়ারে শিক্ষক সমাজ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিকগণ সহ দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভালোবাসার বৃষ্টিই নেমেছে তার উপর।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রোফেশনাল এর ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নিলিম মহসিন রেজা লিখেছেন, “পরম শ্রদ্ধেয় স্নেহময় শিক্ষক ও অগ্রজ প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী ভাই এর আজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে শেষ কর্মদিবস। সততা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিক ও একাডেমিক উৎকর্ষ সাধনে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সফলতম উপাচার্যগনের মাঝে অনন্য এক নাম হারুন-উর-রশীদ আসকারী।

তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রিয় ছাত্র ছাত্রীদের জন্য যা করেছেন তা অনেকের কাছে হয়ত অসাধ্য। উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের চরম কর্মব্যস্ত দিনগুলোতেও তিনি কখনই ক্লাস বিচ্ছিন্ন থাকেননি।

দেশ-দেশান্তরে ছুটে বেড়িয়ে আসকারী ভাই একের পর এক তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য মুকুটে যুক্ত করেছেন নতুন নতুন পালক। আমি কায় মনোবাক্যে আমার অতি প্রিয় এই গুনী মানুষটির মঙ্গল কামনা করি। ”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জামান লিখেছেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া’র ১২ তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাপক সাফল্যের সাথে আজ ২০ আগস্ট ২০২০ তাঁর ০৪ (চার) মেয়াদ পূর্ণ করলেন। তাঁর সরাসরি শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত এবং সৌভাগ্যবান মনে করি। আমার দৈনন্দিন জীবনে তাঁর প্রভাব অপরিসীম। নিরন্তর শুভকামনা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা স্যার!”

মোহনা টিভির সাংবাদিকদ মিলন খন্দকার লিখেছেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ হলো আজ। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইতিহাসে কোনো উপাচার্যই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। তবে ১২তম উপাচার্য হিসাবে মেয়াদ পূর্ণ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন উর রশিদ আসকারী।”

পুনঃ নিয়োগের দাবী জানিয়ে অনিরূদ্ধান নাইম নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতম ভিসি স্যারের জন্য অফুরান শুভ কামনা, শ্রদ্ধা, ভালােবাসা! একজন অনন্য শিক্ষক (আপনার ক্লাসে যারা বসতে পেরেছি শুধু তারাই জানি), একজন ভালোবাসার বাতিঘর। স্যার, আপনি আমাদের গর্ব! আবারা ভিসি হিসেবে আপনাকেই চাই।”

আরিফুজ্জামান আরিফ নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন,” আমরা ভাগ্যবান তাই আপনার মত একজন নেতাকে উপাচার্য হিসাবে পেয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর যখন জীবনের স্বপ্নগুলাে ধূসর হয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই পায়রা হয়ে আপনার আগমন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছে। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা,স্যার।”

ইবির আইন অনুষদের শিক্ষক নাসির আজহারী লিখেছেন, “সাফল্য সাফল্যকে বয়ে আনে” এই মহাজাগতিক আইন থেকে কি রেহাই নেই। আর খুব অল্প সংখ্যক মানুষকে আল্লাহ নিজেদের মিশন পূর্ণ করার তৌফিক দান করেন। তারাই ক্ষণজন্মা, গ্রেট একাডেমিক লিডার। উষ্ণ অভিনন্দন, অবিরাম কৃতজ্ঞতা ও নিরন্তর শুভকামনা স্যার।

ইবির ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মালেক বলেন, পিছিয়ে থাকা ইবি-কে আপনি আপনার সৎ কর্মযােগ্যতা, নিষ্ঠা এবং সদা জাগ্রত অতন্ত্র প্রহরীর মতাে আগলে রেখে চারটি বৎসর যেভাবে সেবা দিয়ে গেলেন, তা ইবির ইতিহাসে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবে। আপনি আমাদের গর্ব। আপনার সামনের দিনগুলাে আরও সুন্দর ও সন্মানের হােক।
স্বচ্ছতার সাথে মেয়াদ পূর্ণ করা গর্বের উল্লেখ করে শিকদার ওয়ালিউজ্জামান নামে একজন বলেন, “আপনাকে শিক্ষাগুরু হিসাবে পেয়েছি। এটাই আমাদের জন্য অনন্য পাওয়া। স্বচ্ছতার সাথে আপনি আপনার মেয়াদ পূর্ণ করেছেন সেইজন্য ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হিসাবে গর্ব বােধ করি। আপনার চিন্তার সৌকর্য আরাে ছড়িয়ে পড়ুক সেই কামনা করি। আপনার হাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যে সৌন্দর্য আর অনন্যতা পেয়েছে সেটা অক্ষুন্ন থাক সে স্বপ্ন আমাদের এবং আমাদের সকল অনুজের। আপনি সুস্থ থাকুন স্যার।”

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি সাধনে অবদান কথা উল্লেখ করে ইবি সিএসই বিভাগের শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান লিখেছেন, “স্যার, যা কিছু করেছেন তা সবই আজ দৃশ্যমান, নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে কেউ আপনার অবদান অস্বীকার করতে পারবে না। আপনার জন্য অবিরাম শুভ কামনা ও আন্তরিক ধন্যবাদ। পরিশেষে দেশ ও জাতি গঠনে আপনার উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করি।”

নবনিতা নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, স্যার, আপনি যখন কথা বলেন দম বন্ধ করে শুনতে ইচ্ছে করে,এতটা অনুপ্রেরণা আর কোথাও পাই না! বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বলা আপনার কথা গুলাে এখনাে পথ দেখায়,সেই থেকেই আপনি আমাদের আদর্শ সময় পেরিয়েছে আপনার প্রতি শ্রদ্ধাও বেড়েছে! আমরা খুব করে চাইছি যাতে দ্বিতীয় মেয়াদে আপনাকে উপাচার্য হিসেবে পাই!

ইসলাম নজরুল নামে একজন লিখেছেন, “আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো- কর্মঘন্টা বাড়ানো। আরও অসংখ্য অর্জন রয়েছে। আর প্রধান ব্যাথ’তা হলো- কিছু শিক্ষক আপনাকে ব্যাবহার করে দূরনিতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। আগামী দিনে যদি আল্লাহ তায়ালার রহমতে পুনরায় দায়িত্ব ভার পান এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখার অনুরোধ রইল প্রিয় স্যার।”

সজীব মাহমুদ নামে একজন বলেছেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ‘আসকারী যুগ’ বা Golden Age নামে একটি যুগের/সময়ের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। গর্বিত আপনার সরাসরি ছাত্র হিসেবে, গর্বিত আপনাকে ভিসি রুপে পেয়ে। ইবির মরিচা পড়া রুপটাকে আপনি ঘষে আসল সোনার ঝলকানি সবার সামনে নিয়ে এসেছেন। সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ আপনাকে যেন আর একটিবার ইবি পরিবার পায়, ভিসি হিসেবে। অসংখ্য অভিনন্দন স্যার।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশীদ আশকারী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি তে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে বলে জানা যায়।

দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ বছর পর চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ নামে ম্যুরাল স্থাপন, বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠা এবং বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক নিয়োগ, বঙ্গবন্ধু হলের সামনে ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে মুক্তির আহ্বান ও শাশ্বত মুজিব নামের আলাদা দুটি ম্যুরাল স্থাপন, কারিকুলামের উন্নয়নে ৫টি অনুষদ থেকে ৮টি অনুষদে রুপান্তর।

২৫টি বিভাগ থেকে ৩৪টি বিভাগে উপনীতকরণ, সেমিস্টার পদ্ধতি চালুকরণ এবং সেশন জট দূরীকরণ। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এমওইউ স্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালটিকে করেছে আরও স্বনামধন্য।

এমন অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যদিয়ে দেশে নতুন করে ভিন্ন পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *