বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫১ অপরাহ্ন

‘বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিকল্পিতভাবে বস্তিতে পরিণত করা হচ্ছে’: আন্দোলনকারী

  • আপডেট টাইম সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১, ৮.০৫ পিএম
'বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিকল্পিতভাবে বস্তিতে পরিণত করা হচ্ছে': আন্দোলনকারী

জাককানইবি টুডেঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে (জাককানইবি) একটি পরিকল্পিত বস্তি বানানোর চেষ্টায় নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন মন্তব্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের পেছেনে পুরাতন খেলার মাঠে নতুন আরো একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মানের উদ্যোগ নেয় জাককানইবি’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর । শনিবার (২০ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ভবনের জন্য সীমানাপ্রাচীর চিহ্নিতকরণসহ প্রথম পর্যায়ের কাজ।

বিজ্ঞাপন

এর পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ ২২ নভেম্বর (সোমবার) দুপুর ১১ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । পরে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

নতুন প্রশাসনিক ভবনটি নির্মাণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের পরিধি কমে যাবে, অনুশীলন মাঠ নষ্ট হয়ে যাবে, ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিসৌধ ও জয় বাংলা ভাস্কর্যের সৌন্দর্য বিনষ্ট হবে। এছাড়া কাটা যাবে বেশ কিছু গাছ। মূলত এসব কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব জায়গায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বিনষ্ট করে কোন উন্নয়ন আমরা চাই না। এত চাপাচাপি করে দালান তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে বস্তি বানানোর একটি রুচিহীন পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। আমরা চাই একটি সুন্দর সবুজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাসহ সাংস্কৃতিক আবহ বিনষ্ট করার এই ঘৃণ্য পরিকল্পনা কোনভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেয়া যায় না। প্রয়োজনে নতুন অধিগ্রহণকৃত জায়গায় এই ভবন নির্মাণ করতে হবে।মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি জানান এবং প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দেয়। দাবিগুলো হলো:

১) নতুন প্রসাশনিক ভবন নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। নতুন অধিগ্রহণকৃত জমিতে অথবা নতুন জমি অধিগ্রহণ করে ভবণ নির্মাণ করতে হবে।
২) এক সপ্তাহের মধ্যে পুরাতন দুই খেলার মাঠ সংস্কার করতে হবে। নতুন একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে।
৩) নতুন হলের জন্য খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

৪) ক্যাম্পাসকে অতিসত্বর ৫০০ একরে পরিণত করতে হবে।
৫) অপরিকল্পিত আর কোনো ভবণ নির্মাণ করা যাবে না এবং নতুন মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে।
৬) নতুন ভবনের জন্য গাছ কাটা যাবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
৭) পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়াকার্স (ডিপিডি) দপ্তরে পরিবর্তন আনতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি শুধুমাত্র একজন দায়িত্বরত ব্যক্তি। এখানে এ ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা আরও আগের। আমার কিছুই করার নেই।’

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। এর আগেই এখানে দালান নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে আজকের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি মিটিং ডেকেছে। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়াগুলো শুনেছি। এ নিয়ে আজ বিকেলে লোকাল প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির (এলপিআইসি) একটি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে দাবিগুলো তুলে ধরবো। মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হবে বলে আশা করি।’

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, এর আগেও কর্তৃপক্ষের এমন আরো কিছু কাজের প্রতিবাদ জানালেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি।ফলে ধীরে ধীরে বিশ্বিবদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং বস্তিতে পরিণত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বৃদ্ধি না করে সেখানে ইচ্ছে ভবন, হল, ফ্যাকাল্টি, গেস্ট হাউজ নির্মাণ, লেক বা পুকুর ভরাট করা, বৃক্ষ নিধন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকে নজর না দেয়া যেনো নিয়মে পরিনত হয়েছে ।

বিজ্ঞাপন

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today