বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরেনাম ::
সেশন জট থেকে আমাদের বাঁচান ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় নোবিপ্রবির চার সংগঠন থেকে প্রতীক মজুমদারকে বহিষ্কার জবিতে তিথী সরকার কে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান উৎসর্গ ফাউন্ডেশন এর জবি শাখার সভাপতি প্রণয় সাধারন সম্পাদক মেহেদী বশেমুরবিপ্রবি : অপেক্ষামান শিক্ষার্থীদের ভর্তির দাবিতে আমরণ অনশন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হবে সশরীরে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি,নোবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মহানবীকে ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে তিতুমীর কলেজে মানববন্ধন ফেনীতে বিজয়া দশমী সম্পন্ন মুসলিম উম্মাহর প্রাণের স্পন্দনকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র, সারাবিশ্বে তোলপাড়

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এবং যা যা জানতে হবে

  • আপডেট টাইম শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ৯.২১ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এবং যা যা জানতে হবে

মোঃ ইসতিয়াক হোসেন সোয়েব


অনেক সময় জুনিয়ররা তাদের পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভাই আপুদের প্রশ্ন করে ভাইয়া ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার জন্য আপনি কিভাবে পড়েছেন? প্রতিদিন কয় ঘণ্টা করে পড়েছেন? কিংবা ভাইয়া চান্স পাওয়ার জন্য কি কি বই পড়তে হবে? শিট গুলা পড়বো নাকি মূল বইয়ের উপরে গুরুত্ব দিবো ইত্যাদি প্রশ্ন।আসুন জেনে নেওয়া যাক চান্স পাওয়ার জন্য মূলত কি দরকার।

১) পড়া কিভাবে শুরু করবো?

ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য মূলত দরকার সঠিক দিকনির্দেশনা এবং প্রস্তুতি।যুদ্ধের ময়দান সম্পর্কে ভালোভাবে জানা মানে অর্ধেক যুদ্ধ জয়।তাই চান্স পেতে হলে অবশ্যই প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানতে হবে।তাই আমাদের ভর্তি প্রস্তুতি শুরু হবে প্রথমে প্রশ্ন-ব্যাংক বিশ্লেষণ করে।প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন অনুসরণ করে প্রশ্ন তৈরি করে।এজন্য পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ব্যাংক থেকে পূর্বে কোন ধরনের প্রশ্ন আসছে সে সম্পর্ক সুস্পষ্ট ধারণা নিতে হবে।

তারপর সেই ধরনের প্রশ্নগুলোর উপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সালের প্রশ্ন হুবহু কমন পাওয়া যায়।তাই প্রশ্ন-ব্যাংক বুঝে বুঝে শেষ করতে হবে।অনেক শিক্ষার্থীদেরকে দেখা যায় প্রশ্ন কমন পাওয়ার আশায় প্রশ্ন-ব্যাংক আবুল তাবুল মুখস্থ করছে।এমন করলে ভালোর জায়গা খারাপই বেশি হবে।দু-একটা প্রশ্ন কমন পেলেও বেশির ভাগ সময়েই আপনাকে হতাশ হতে হবে।কারণ বেশিরভাগ সময়েই প্রশ্নগুলো একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আসে তবে টপিক একই থাকে।এজন্য বুঝে বুঝে প্রশ্নব্যাংক শেষ করতে হবে।তাহলে প্রশ্ন একটু ঘুড়িয়ে পেঁচিয়ে আসলেও আপনি উওর করতে পারবেন।

২) মূল বই পড়বো নাকি শিটে বেশি গুরুত্ব দিবো?

অবশ্যই মূল বই বেশি গুরুত্ব সহকারে পড়তে হবে।মূল বই বুঝে বুঝে পড়লে ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার বেশিরভাগ প্রস্তুতিই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।মূল বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শিট বই ফলো করতে হবে।একই বিষয়ের জন্য একাধিক ভিন্ন ভিন্ন বই নেওয়া যাবে না।যে কোন একটা বই আগে ভালভাবে শেষ করতে হবে।তারপর অন্য বই শিট নাড়াচাড়া করে দেখতে হবে।আর পুরনো পড়া গুলো বেশি বেশি রিভাইজ করতে হবে।ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার মূল মন্ত্রই হচ্ছে পুরনো পড়া বেশি বেশি রিভাইজ করা।কারণ ভর্তি পরীক্ষায় ছোটখাটো ভুল গুলাই আমাদেরকে চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকধাপ পিছিয়ে দিবে।আর এই ছোটখাটো ভুলগুলো থেকে বাচতে পুরনো পড়া বেশি বেশি রিভাইজ করতে হবে।

৩) ভাইয়া অমুক ভার্সিটির প্রশ্ন তো অনেক কঠিন,ঐখানে চান্স পাবো কেমন করে?

আমরা অনেক সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববতী বছরের প্রশ্ন দেখে ঘাবড়ে যাই।অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কঠিন প্রশ্ন করে থাকে।কঠিন প্রশ্ন দেখে ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই।প্রশ্ন আপনার কাছে কঠিন মানে সবার কাছেই কঠিন।সহজ প্রশ্নে চান্স পাওয়ার জন্য যেখানে অনেক মার্ক দরকার হয় সেখানে কঠিন প্রশ্ন কম মার্কেই চান্স পাওয়া যায়।তাই প্রশ্ন সহজ কিংবা কঠিন এই নিয়ে দুশ্চিন্তা করা যাবে না।আর সহজ প্রশ্নেই মূলত চান্স পাওয়া বেশি কঠিন।প্রশ্ন সহজ হবার কারণে তখন প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে,ছোট্ট একটি ভুল আপনাকে প্রতিযোগিতার বাইরে ছুড়ে ফেলতে পারে।

৪) গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় গুলো কি বেশি করে পড়বো?

ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, টপিক গুলো বেশি বেশি করে পড়তে হবে।কারণ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় গুরুত্বপূর্ণ টপিক এবং অধ্যায় থেকেই বেশি প্রশ্ন আসে। আর রিটেনের জন্য ব্যাসিকের উপর গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।অনেক শিক্ষার্থী নৈর্ব্যক্তিক ভালো করলেও শুধুমাত্র দুর্বল ব্যাসিক হওয়ার কারণে রিটেনে এসে বেধে যায়।মূল বই ভালো করে বুঝে বুঝে পড়লে এমসিকিও+রিটেন দুটোতেই ভাল করা সম্ভব।

৫) ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে কিভাবে পড়বো?

ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার জন্য বাজার থেকে ভালো একটি বই কিনতে হবে।তারপর সেই বইটি ভালোভাবে শেষ করতে হবে।এইক্ষেত্রেও একাধিক বই একসাথে অনুসরণ করা যাবে না।প্রথম বইটি ভালোভাবে শেষ করে পাশাপাশি অন্য একটি বই শিট নাড়াচাড়া করে দেখতে হবে।ইংরেজির ক্ষেত্রে ভোকাবুলারির উপর গুরুত্ব দিতে হবে।সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর উপর নজর রাখতে হবে।প্রতিদিন খবর দেখতে হবে।পত্রিকা পড়তে হবে।বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনাবলী থেকে সাম্প্রতিকে প্রশ্ন আসে।এছাড়া বাজারে সাম্প্রতিকের জন্য অনেক ভালো ভালো বই পাওয়া যায়।ঐগুলা দেখতে হবে।

৬)ভাইয়া চান্স পাওয়ার জন্য কতক্ষণ পড়বো?

চান্স পাওয়ার জন্য কতক্ষণ পড়তে হবে এর নির্ধারিত কোনো সময় নেই।প্রতিদিন টার্গেট করে পড়তে হবে।সিলেবাস শেষ করার জন্য যতক্ষণ দরকার ততক্ষণ পড়তে হবে।আমার সাজেশন প্রতিদিন মন দিয়ে ৮-১০ ঘণ্টা পড়ার টার্গেট রাখতে হবে।এছাড়া অনেকেরই প্রশ্ন চান্স পেতে কতো মার্ক লাগে?একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার টার্গেট থাকবে ৭০% নাম্বার পাওয়ার চেষ্টা করা।৭০% পুরোপুরি সেফ জোন।

৭) টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং স্মার্টলি প্রশ্ন উত্তর করবো কিভাবে?

বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার জন্য টাইম ম্যানেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।বাজারে বিভিন্ন ধরনের মডেল টেস্ট কিনতে পাওয়া যায়।সেগুলো কিনে বাসায় ঘড়ি ধরে নিজে নিজে পরীক্ষা দিতে হবে।এভাবে প্রতিদিন অনুশীলন করতে হবে।পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্ন গুলো নিয়ে বেশি ভাবা যাবে না।মূলত কঠিন প্রশ্ন দেওয়াই হয় ছাত্রছাত্রীদের সময় নষ্ট করার জন্য। তাই এসব প্রশ্ন স্কিপ করতে হবে এবং শেষে সময় পেলে তখন এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।আগে সহজ প্রশ্নগুলার উত্তর সঠিকভাবে করতে হবে।অনেক সময় ট্রিকড প্রশ্ন থাকে।সেগুলো সম্বন্ধে সাবধান থাকতে হবে।

এছাড়া ভুল প্রশ্নের উত্তর দিলে নাম্বার কাটা হয়।তাই চান্স পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দেবার পর আর ১০০% শিওর না হয়ে উত্তর করা উচিত না।এতে ভালো করার চাইতে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।এসব প্রশ্ন দেওয়াই হয় ছাত্রছাত্রীদের নাম্বার কাটার জন্য।

তাই প্রশ্নের উওর দেওয়ার ক্ষেত্রে স্মার্ট হতে হবে। আবার অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন কঠিন দেখে বেশি উওর করতে না পেরে ভয় পেয়ে যায়,তখন তারা নিশ্চিত না হয়েই আবুল তাবুল প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকে।মনে রাখবেন আবুল তাবুল প্রশ্নের উত্তর করে কখনোই ভার্সিটিতে চান্স পাওয়া সম্ভব না।আর উপরেই বলেছি আপনার কাছে কঠিন মানে সবার কাছেই কঠিন।তাই ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না।ভেবে ভেবে উত্তর দিতে হবে।কঠিন প্রশ্নে অল্প মার্কেই চান্স পাওয়া যায়।

ভর্তি পরীক্ষা একপ্রকারের ধৈর্যের পরীক্ষাও বটে।বেশি বেশি ফর্ম তুলে রাখতে হবে।এক জায়গায় চান্স না হলে আরেক জায়গায় পরীক্ষা দিতে হবে।হতাশ হওয়া যাবে না।একদম শেষ পর্যন্ত লড়তে হবে।সবসময় নিজের মনোবল ঠিক রাখতে হবে।প্রতিযোগীর সংখ্যা দেখে ঘাবড়ানো যাবে না।সবাই ফর্ম তুললেও আসল প্রতিদ্বন্দ্বী সংখ্যা তার থেকেও অনেক কম।প্রতিদিন নামাজ আদায় করতে হবে।

কোন সমস্যা হলে পিতামাতার সাথে আলোচনা করতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বড় ভাই আপু থাকলে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।আর এই কয়েকমাস শুধু বইয়ের সাথেই বন্ধুত্ব রাখতে হবে।মনে রাখবেন আপনাকে নিয়ে অনেকেই আশাবাদী।এখন থেকেই ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন।

লেখক-   শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
© All rights reserved © 2019-20 The Campus Today
Theme Download From ThemesBazar.Com