মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরেনাম ::
ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় নোবিপ্রবির চার সংগঠন থেকে প্রতীক মজুমদারকে বহিষ্কার জবিতে তিথী সরকার কে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান উৎসর্গ ফাউন্ডেশন এর জবি শাখার সভাপতি প্রণয় সাধারন সম্পাদক মেহেদী বশেমুরবিপ্রবি : অপেক্ষামান শিক্ষার্থীদের ভর্তির দাবিতে আমরণ অনশন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হবে সশরীরে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি,নোবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মহানবীকে ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে তিতুমীর কলেজে মানববন্ধন ফেনীতে বিজয়া দশমী সম্পন্ন মুসলিম উম্মাহর প্রাণের স্পন্দনকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র, সারাবিশ্বে তোলপাড় জিবিএমসির পথচলার এক বছর

রাবিতে ঝুলে আছে পরীক্ষা; চাকরির আবেদন নিয়ে শঙ্কায় হাজারো শিক্ষার্থী

  • আপডেট টাইম শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ৩.৩৪ পিএম

 

ওয়াসিফ রিয়াদ, রাবি


করোনা মহামারি জনিত সমস্যায় প্রায় আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। এমতাবস্থায় অনলাইনে ক্লাস নেয়া হলেও আটকে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিভিন্ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের চলমান পরীক্ষা।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী চাকরিতে আবেদন করা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা আটকে থাকার কারণে উভয় সংকটে পড়েছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক লুৎফর রহমানের কাছে মৌখিকভাবে জানায় শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও একই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) গ্রুপ খুলে এ দাবি জানায় তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান, আইন, আইন ও ভূমি প্রশাসন, ইসলামিক স্টাডিজ, রসায়ন, ফার্মেসী, পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, গণিত, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্সসহ আরও বেশ কয়েকটি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঝুলে আছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এভাবে যদি চলেতে থাকে তাহলে আসন্ন পাবলিক সাভিস কমিশন, ব্যাংক জব, জুডিসিয়ালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরীক্ষায় আবেদন যোগ্যতা হাড়াচ্ছে তারা।
এছাড়াও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেকাংশে এগিয়ে যাবে বলে তারা মনে করছেন।

জানতে চাইলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম মিতু বলেন, ‘আমাদের আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো যদি হয়ে যেত তাহলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হতো। কারণ, সামনে অনেক সার্কুলার বের হবে যেখানে আমরা আবেদন করতে পারছি না। এছাড়াও আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের বিশেষ করে জুডিসিয়াল পরীক্ষাও রয়েছে। আগের পরীক্ষার ভাইবা কিছুদিনের মধ্যে শেষ হবে।
এর কিছুদিনের মধ্যেই আবার সার্কুলার হবে। আমরা এই সুযোগগুলো থেকে বঞ্চিত হতে চাইনা।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘চতুর্থ বর্ষের একটা পরীক্ষা বাকি থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে তারা কোন চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছে না।
করোনার জন্য শিক্ষাজীবন আর চাকরি উভয় সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে তাদের।’

একই সমস্যার কথা জানিয়ে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফ মাহমুদ বলেন, বিশ্বাবিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে তাদের পরীক্ষাগুলো নিতে পারে।
অন্য বিভাগের বন্ধুদের রেজাল্ট বের হলেও তারা অনেক পিছিয়ে আছেন এবং এই সমস্যা সমাধানে পরীক্ষা নেয়ার বিকল্প কিছু নেই বলে মনে তিনি করেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভাগগুলোকে একটি রুটিনের আওতায় এনে পরীক্ষাগুলো নেয়া যেতে পারে। এতে আসন্ন সমস্যা কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ০৭ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষা অনলাইনে শেষ করার ঘোষণা দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ঘোষণা দিলেও এসবের কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করছে না কর্তৃপক্ষ। আটকে থাকা পরীক্ষা নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তাঁরা।

আটকে থাকা পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এম এ বারী বলেন, সারা বিশ্বে করোনা মহামারি চলছে এসময়ে পরীক্ষা নেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকারী ঘোষণা এলেই কেবল এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। তাছাড়া, যেসব শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে সীমিত পরিসরে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন কোন ভোগান্তির শিকার না হয়। যদি স্বাস্থবিধি মেনে তাদের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। কিছুদিন আগে আমার কাছে শিক্ষার্থীরা এই দাবি নিয়ে এসেছিলো।
আগামী ২৭ তারিখ একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভা রয়েছে সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হবার কথা। আশা করছি তারপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করেন। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই তাদের পরীক্ষা শেষ হোক।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে একক ভাবে সিদ্ধন্ত নিতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) যদি নির্দেশনা দেয় তাহলে সে অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নেব। এছাড়াও আসন্ন একাডেমিক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
© All rights reserved © 2019-20 The Campus Today
Theme Download From ThemesBazar.Com