শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

শেষ বেলার গল্প

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ১১.৫৭ এএম
শেষ বেলার গল্প

ওয়াসিফ রিয়াদ : ক্যাম্পাসে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা, গ্রুপ স্টাডি, ঘোরাঘুরি, ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষা নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে কখন যে জীবনের সেরা দিনগুলো শেষ হয়ে যায় তা কেউ টেরই পায় না। হঠাৎ বেজে ওঠে বিদায়ের ঘণ্টা। বিদায় নামক অপ্রিয় সত্যটি সবার জীবনেই আসে। ঠিক যেভাবে এসেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সদ্য শেষ স্নাতকোত্তর (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের। গত ১৬ নভেম্বর ভাইবা দেয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্যাম্পাস জীবনের ইতি টেনেছেন তাঁরা।

শিক্ষাজীবনের শেষ বেলার স্মৃতিগুলো স্মরণীয় করে রাখতে শেষবারের মত আনুষ্ঠানিক ভাবে মিলিত হয়েছেন তাঁরা। বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সকালে র‍‍্যালি ফটোসেশন, দুপুরে খেলাধুলা এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তারা। বিভাগ থেকে তাঁদের জন্য বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছে বিভাগের ১৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও প্রত্যেক ব্যাচের স্বতঃ স্ফূর্ত ​সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণে জমে উঠেছে দিনটি।

১৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমনা হক ইমা বলেন, একজন বিদায়ী শিক্ষার্থী বোঝে বিদায় কতটা কষ্টের। ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি বছর একসঙ্গে থেকেছি। বন্ধু, বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কত স্মৃতি কত মায়া রয়েছে। সব ছেড়ে চলে যেতে হবে নিজ নিজ গন্তব্যে। হয়তো আবার তৈরি হবে নতুন পৃথিবী। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কয়টা বছরের স্মৃতি যেন কখনই ভোলার মত নয়। শেষ বেলায় শুধু এটাই বলবো, যে যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক সবাই।

আরও পড়ুন :ক্যাম্পাস টুডেতে সংবাদ প্রকাশের পর ইবি টিএসসির ওয়াশরুম পরিষ্কার

বিদায়ী শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো উন্মুক্ত জ্ঞানের উদ্যান, নিজ বিভাগ হলো সেই উদ্যানের শ্রেষ্ঠ একটি ফুল গাছ। প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীরা সেই ফুল গাছের অতিথি পাখি হয়ে আপন করে নেয় ক্যাম্পাস আর বিভাগকে। সময় গড়িয়ে বেলা পেরিয়ে সবাইকে সেই গাছ কিংবা উদ্যান ছেড়ে চলে যেতে হয়। ইতিমধ্যে হাজারো স্মৃতির পাতায় পাওয়া না পাওয়ার হিসাবের অংকটা বড় ভারী হয়ে যায়।

সোহানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অজান্তেই অসংখ্য স্মৃতি তৈরি হয়েছে। সাধের বন্ধুদের ফেলে যাওয়ার অনুভ‚তি নিশ্চই দু’একটি কথায় প্রকাশ করা কঠিনতম কাজের একটি। সুখ-দুঃখ, রেষারেষি, সময়ে-অসময়ে, কাজে-অকাজে পাশে পাওয়া বন্ধুরা হৃদয় মন্দিরে চিরসবুজ থাকলেও বাস্তবতার কঠিন নিয়ম সবাইকে দূরে ঠেলে দেয় একসময়। চলে যেতে হয় অনেক অনেক দূরে।

একই ব্যাচের মেহেদী হাসান কমল বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষক, বন্ধু, বড়-ছোট অনেক ভাইবোনের সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে। তাদের কখনই ভুলবো না। হয়তো আবার দেখা হবে গোলাকার পৃথিবীর কোন এক কানাগলিতে। হয়তোবা আর দেখা নাও মিলতে পারে। ভাবনাটা যত নিষ্ঠুরই মনে হোক এটাই বাস্তবতা। চেষ্টা করবো বিভাগ থেকে এই কয়েক বছরে যে জ্ঞান অন্বেষণ করেছি তা ছড়িয়ে দেয়ার। সকলের দোয়া কামনা করছি।

ওয়াসিফ রিয়াদ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today