শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১০:১০ অপরাহ্ন

সংকট আর অপূর্ণতায় ১৪ বছরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১, ১.০১ পিএম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রবিউল হাসান সাকীব, বেরোবি প্রতিনিধিঃ আজ (১২ অক্টোবর) তেরো বছর পেরিয়ে ১৪ বছরে পদার্পণ করলো রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। ২০০৮ সালের আজকের এই দিনে ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নাম নিয়ে অস্থায়ীভাবে রংপুর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের রুমে ১২জন শিক্ষক, দুইজন কর্মচারী ও ৩০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠার কয়েক মাস পরই ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত’ বেগম রোকেয়াকে স্মরণীয় করে রাখতে তৎকালীন মহাজোট সরকার রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখে ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর’।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে ৭৫ একর জায়গাজুড়ে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন পার্কের মোড় এলাকায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা-কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদের অধীনে ২১টি বিভাগে শিক্ষাদান কার্যক্রম চলছে। প্রায় সাড়ে আট হাজার শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন ১৮১জন। নতুন করে চলতি শিক্ষাবর্ষে নতুন আরো একটি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ।যোগদানের পর এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। উপাচার্যের দূরদর্শী দিক-নির্দেশনায় ইতোমধ্যে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ ও দ্রততম সময়ে ফলাফল প্রকাশে নজির সৃষ্টি করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। যার ফলে নতুন করে আশার আলো দেখছে শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন স্বরুপ ৪টি একাডেমিক ভবন, ৩টি আবাসিক হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ৪টি আবাসিক ভবন, উপাচার্যের বাসভবন, প্রশাসনিক ভবন, স্বাধীনতা স্মারক(অসম্পূর্ণ), শহীদ মিনার(অস্থায়ী), আনসারদের আবাসিক বাসভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১০ তলাবিশিষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মানাধীন রয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস রেডিও থাকলেও নেই কোন কার্যক্রম। নিজস্ব ভবনের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারটির কার্যক্রম সীমিত।

বিজ্ঞাপন

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে অবহেলিত এই মহীয়সী নারী।প্রতিষ্ঠার তেরো বছরেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই মহীয়সী নারীর নেই কোন প্রতিকৃতি কিংবা ম্যুরাল।সব বিভাগের বাধ্যতামূলক ‘রোকেয়া স্ট্যাডিস’ কোর্স চালু করার ঘোষণা দিলেও নেই এর কোন বাস্তবায়ন।

অবহেলায় পরে থাকা পায়রাবন্দের বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণের কথা থাকলেও নেই কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ। এদিকে, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, ক্লাসরুম-ল্যাব সংকট, শিক্ষক সংকট, লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব, শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট, স্থায়ী খেলার মাঠ, ব্যায়ামাগার ইত্যাদির অভাব শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদার অনেকাংশই অপূর্ণ রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

ক্যাম্পাসকে আরো নান্দনিক করতে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটকের নকশা এক বছর আগে চূড়ান্ত করলেও এখনো বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ নিয়ে প্রায় শিক্ষার্থীদের আফসোস দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা সেজনশটের কবল থেকে বেড়িয়ে জ্ঞানচর্চার তীর্থভূমি হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়। মাথা উচু করে দাঁড়াবে বিশ্বের মানচিত্রে।

বিজ্ঞাপন
Advertisements

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today