সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

‘স্কুলের দুর্নাম হবে’ তাই প্রতিবন্ধী হিমুকে পরীক্ষা দিতে দিল না প্রধান শিক্ষক!

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ২.১৯ এএম

ক্যাম্পাস টুডে ডেস্কঃ পাবনার চাটমোহর উপজেলার দক্ষিণ শিবরামপুর সরকারি বিদ্যালয়ের হিমু খাতুন নামে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে পিইসি পরীক্ষা দিতে দেননি প্রধান শিক্ষক। ফলাফল ভালো করতে না পারলে স্কুলের দুর্নাম হবে তাই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম হিমুকে পরীক্ষা দিতে দেয় নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত রবিবার (১৭ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া পিইসি পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই তাই হিমু পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিল।

পিইসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির বিষয়ে এক অনুসন্ধানে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষকও অকপটে স্বীকারও করেন হিমুকে কেন পরীক্ষা দেয়ানো হয়নি।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবদুল হাই ও সেলিনা পারভীন দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে হিমু বড়। জন্ম থেকেই হিমু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার চলাফেরা আর ১০ জন ছেলে-মেয়ের মতো স্বাভাবিক নয়।

গত অক্টোবর মাসে স্কুলের চূড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষায়ও পাস করে হিমু। কিন্তু রোববার থেকে শুরু হওয়া পিইসি পরীক্ষায় তার কেন্দ্র গুনাইগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হিমুর আসনটি ছিল ফাঁকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিইসি পরীক্ষা শুরুর দুই দিন আগে হিমুদের বাড়িতে যান প্রধান শিক্ষক । এ সময় তিনি ফলাফল ভালো করতে না পারলে স্কুলের দুর্নাম হবে, তাই হিমুকে এ বছর পরীক্ষা না দেয়ানোর জন্য হিমুর বাবা-মাকে বলেন। প্রধান শিক্ষকের এমন কথায় হিমুর বাবা-মা রাজি হন। এরপর কৌশলে হিমুকে এ বছর পরীক্ষা দেবে না মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্রও নেন।

এ ব্যাপারে হিমুর বাবা আবদুল হাই বলেন, “ওই স্কুলে ভালো পড়াশোনা হয় না। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক কম। তবুও মেয়েকে দিয়েছিলাম স্কুলটি বাড়ির পাশে বলে। আমার মেয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হলেও পড়তে ও লিখতে পারে। তবে অন্যদের চেয়ে একটু দেরি হয়। পরীক্ষার দুইদিন আগে প্রধান শিক্ষক বাড়িতে এসে ভালো ফলাফল করতে না পারলে স্কুলের দুর্নাম হবে এবং আগামীতে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেয়ানোর জন্য একটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে গেছে। সে জন্য হিমুর এ বছর পরীক্ষা দেয়া হল না।”

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল কালাম মোবাইল মাধ্যমে বলেন, “হিমু নামের ওই শিক্ষার্থী লিখতে পারে না, বোঝে না কিছুই। তো দেখলাম, পরীক্ষা দিলে ফেল করবে, এতে স্কুলে বদনাম হবে তাই আগামী বছর পরীক্ষা দেয়ার জন্য হিমুর বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়েছি।” এছাড়া ওই প্রধান শিক্ষক সংবাদ না প্রকাশ করতে অনুরোধও করেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এত বছর ধরে যে মেয়েটি পাশ করতেছে সেই মেয়ে পাস করতে পারবে না এটা ভুল! আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। ওই প্রধান শিক্ষক প্রত্যয়ন নিয়ে এবং স্কুলের দুর্নাম হবে বলে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে অপরাধ করেছেন। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

উল্লেখ্য, হিমু উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবদুল হাই-সেলিনা পারভীন দম্পতির মেয়ে।

দ্য ক্যাম্পাস টুডে।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today

নতুন পেজে যুক্ত হতে The Campus Today New Page ক্লিক করুন

আমাদের আগের পেজটি হ্যাকড হয়েছে, নতুন পেজে যুক্ত হতে The Campus Today New Page ক্লিক করুন

আমাদের আগের পেজটি হ্যাকড হয়েছে, নতুন পেজে যুক্ত হতে The Campus Today New Page ক্লিক করুন

This will close in 5 seconds