স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও

ডেস্ক রিপোর্ট


আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মহাপরিচালকসহ
দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণের দাবি করেছেন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আজকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানানো হয়।

দাবি আদায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে দুপুরে মিছিল নিয়ে পল্টন-মুক্তাঙ্গন হয়ে জিরো পয়েন্টে পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে সচিবালয়ের সামনে রাস্তা অবরোধ করে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ-সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন। মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকারের ন্যূনতম প্রস্তুতিও নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেবল চাপাবাজি আর মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন। আর ব্যস্ত আছেন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতা পাহাড় সমান। প্রথম থেকেই দেখা গেল এন-৯৫ মানের মাস্ক উৎপাদনে দুর্নীতি হয়েছে। এ দুর্নীতির সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রীর কাছের মানুষরা জড়িত। এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, এই মহামারির সময়েও থেমে নেই চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা। নিম্ন মানের মাস্ক-পিপিই সরবরাহ করে টাকা লুটে নিচ্ছে সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে শুনে আসছি, মিঠু সিন্ডিকেটের কথা। কে এই মিঠু সিন্ডিকেট? এ সিন্ডিকেট ভাঙা হচ্ছে না কেন?

নেতারা আরও বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছিল মানুষের ঘরে-ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে লকডাউন জোরদার করা। কিন্তু তা না করে জাতীয় স্বার্থের কথা বলে পুঁজিপতিদের স্বার্থে লকডাউন তুলে দেওয়া হলো। লাখো-কোটি মানুষকে মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হলো। যা সংকট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

সমাবেশ থেকে সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসা নিশ্চিত, প্রতিটি জেলা শহরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর মেশিন ও আইসিইউ সাপোর্টসহ ৫০০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু, সকল হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অধিগ্রহণ করে করোনা চিকিৎসা চালুর দাবি জানানো হয়।

এ সময় ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন কৃষক সমিতির সহ-সভাপতি নিমাই গাঙ্গুলী, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, যুব ইউনিয়ন প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা মানবেন্দ্র দেব, ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকরি সভাপতি রুহুল আমিন, গামেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা সাদিকুর রহমান শামীম, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রাসেদুল হাসান রিপন, হকার্স ইউনিয়নের সেকেন্দার হায়াৎ, ছাত্র ইউনিয়নের অনিক রায় প্রমুখ।

সৌজন্যে: কালেরকন্ঠ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *