শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৬ অপরাহ্ন

হাবিপ্রবি ছাত্র-ছাত্রীকে বাথরুমে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২ এপ্রিল, ২০২১, ১২.২৩ এএম
হাবিপ্রবি ছাত্র-ছাত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের অভিযোগ

মো: রুবাইয়াদ ইসলাম, হাবিপ্রবিঃ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ এম এ ওয়াজেদ ভবনের প্রথম তলায় থাকা বাথরুমের মধ্যে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী মোঃ ফারুক হোসেন। এ ঘটনায় জড়িত দুই শিক্ষার্থী হলেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন (১৫ ব্যাচ) ও মোছা: মারুফা আক্তার মেঘনা (১৬ ব্যাচ)। উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী মোঃ ফারুক হোসেনের কাছে থেকে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, “বুধবার (৩১ মার্চ, ২০২১) আনুমানিক বিকাল ৫টায় অভিযুক্ত মেয়ে শিক্ষার্থী (মেঘনা) ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সাথে দেখা করতে ওয়াজেদ ভবনে প্রবেশ করতে চান। কিন্তু তিনি না থাকায় আমি তাকে ভিতরে ঢুকতে নিষেধ করি।

বিজ্ঞাপন

পরে মেঘনা ওয়াসরুমে যেতে চাইলে আমি নিচ তলার উত্তর দিকে যেতে বলি। এর কিছুক্ষণ পরে অভিযুক্ত ছেলে ( মোঃ দেলোয়ার হোসেন) এসে পুনরায় ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সাথে দেখা করতে চান। আমি পুনরায় তাকেও বলি স্যার চলে গেছেন। পরে অভিযুক্ত ছেলে ১৩৬ নাম্বার ল্যাবে যেতে চাইলে আমি তাকে ভিতরে যেতে অনুমতি দেই। বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর অভিযুক্ত মেয়ে ওয়াশরুম থেকে না ফেরায় আমি একজন আনসার সদস্যকে ওয়াজেদ ভবনের ভিতরে পাঠাই।

মি.ফারুক হোসেন আরও জানান, তিনি ১৩৬ নাম্বার রুমে গিয়ে দেখেন অভিযুক্ত ছেলেটি নেই। পরে আনসার সদস্য ফিরে এসে আমাকে জানালে আমি তাকে প্রবেশ পথে রেখে মেয়েটি যেদিকে গেছে সেই পাশে যাই। ওয়াশরুমের সামনে যেতেই ওয়াশরুমের ভিতর থেকে অভিযুক্ত ছেলে ও মেয়ের গুনগুন শব্দ শুনতে পারি। এর কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত মেয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে আমি তাকে প্রশ্ন করা শুরু করলে তিনি আমার সাথে অশোভনীয় আচরণ করেন। এসময় অভিযুক্ত ছেলে একই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ওয়াজেদ ভবনের নিচ তলা থেকে দৌড় দিয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে যান।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, এসময় তাকে থামতে বললে তিনি কথা না শুনেই উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে চলে যান। এসময় তাকে ধরতে গিয়ে অভিযুক্ত মেয়ে শিক্ষার্থী (মেঘনা) ওয়াজেদ ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন । এসময় ওয়াজেদ ভবনের প্রবেশ পথ আটকিয়ে দেয়া হয়। পরে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ খালেদ হোসেনকে ফোন দিলে তিনি সহকারী প্রক্টর মোঃ শিহাবুল আওয়াল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসনকে পাঠায় দেন। কিছুক্ষণ পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা অফিসার ওয়াজেদ ভবনের সামনে আসলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের থেকে বিস্তারিত তথ্য নেয়া হয় ।

উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমি ঘটনা স্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত দুইজনকেই অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থায় দেখতে পাই। অভিযুক্ত ছেলেটি সেসময় দৌড় দেয়ার কারণে হাঁপাতে দেখেছি। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে কিছু ছাত্রলীগের কর্মী এসে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় “।

বিজ্ঞাপন

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে গণমাধ্যম থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি মাস্টার্সের কাজে দুপুর তিনটা থেকেই ল্যাবে ছিলাম। তবে আমার গার্ল ফ্রেন্ড (অভিযুক্ত মেয়ে) রেজাউল ইসলাম স্যারের কাছে মাস্টার্সে ভর্তি হবেন জন্য দেখা করতে গিয়েছিলো। কিন্তু স্যার না থাকায় ওয়াজেদ ভবন থেকে বেরিয়ে যায়। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মেঘনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের সামনে থেকে আটক করা হয়। এ সময় আমিও আমার কাজ শেষে বের হওয়ায় আমাকেও আটক করা হয়। যা আমি চক্রান্ত বলে মনে করছি। আমি ক্যাম্পাস রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বিধায় আমাকে একটি পক্ষ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে “।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ খালেদ হোসেন বলেন, “এই ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি আমাদের। যেহেতু নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি জানিয়েছে সেহেতু আমরা রবিবার উক্ত বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সাথে আলোচনায় বসবো। অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। তারাও আসবেন উক্ত দিনে। এরপর আমরা ঘটনা সত্যতা যাচাই-বাছাই করে উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো”।

বিজ্ঞাপন

এমন ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদুল আলম রনি বলেন, “ঘটনাটি আমি আজকে(গতকাল) শুনেছি। দীর্ঘদিন ধরে হাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের কমিটি না দেওয়ার কারণে অনেকেই ছাত্রলীগের নাম নিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে এই ধরণের অপকর্মে জড়িত প্রমাণিত হলে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে বিচার করবেন এটাই প্রত্যাশা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ঠিক রাখতে ক্যাম্পাসে প্রশাসনের তৎপরতা আরও বাড়ানো দরকার। আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার পক্ষ থেকে এই অপ্রীতিকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি”।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির সহ-সভাপতি রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য ঘটনাটি শোনার পর বলেন, “যেহেতু তারা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সত্যতা যাচাই করে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করবে এটাই আমার চাওয়া। তবে ছাত্রলীগের এমন কর্মকান্ডে আমি ব্যাক্তিগতভাবে ব্যথিত। করোনা পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাস খুললেই হাবিপ্রবির বর্তমান কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি দেয়া হবে “।

বিজ্ঞাপন

ঘটনায় অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ছাত্রলীগের সদস্য হওয়ায় হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ থেকেও এর তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেদের টাইমলাইনে পোষ্ট করে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং শাস্তি দাবি করা হচ্ছে।

Advertisements

বিজ্ঞাপন

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today