রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

‘২৫ মার্চকে ইন্টারন্যাশনাল জেনোসাইড ডে হিসেবে প্রত্যাশা করি’

  • আপডেট টাইম শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২, ৫.৪৮ পিএম
জাককানইবিতে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন সৌমিত্র শেখর

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ একাত্তরের ২৫ মার্চ কাল রাত্রিতে ঘুমন্ত, নিরস্ত্র বাঙালির উপর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলার জন্য তাদেরকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ তারা যে বর্বরতার পরিচয় দিয়েছিল সেটি খুবই ঘৃণার যোগ্য। আমরা এই দিনটিকে ইন্টারন্যাশনাল জেনোসাইড ডে হিসেবে প্রত্যাশা করি। আশা করি এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আমরা পাবো। এদিকে ২০১৭ সাল থেকে আমরা এটিকে জাতীয়ভাবে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করছি। আমরা পাকিস্তানীদের কাছে বলতে চাই, আপনারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, দু:খ প্রকাশ করুন।

বিজ্ঞাপন

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রথমদিন শুক্রবার (২৫ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

২৫ মার্চ নিহত সকল মানুষকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, সেসব মানুষকে যাদের উপর ২৫ মার্চ কাল রাতে অপারেশন সার্চ লাইট নামক সুন্দর নামের আড়লে নেমে এসেছিল অবর্ণনীয় বর্বরতা। যেখানে সার্চ লাইট দিয়ে আলোকিত করা হয়, সেখানে এই শব্দটির খারাপ ব্যবহার করা হয়। তবে রাত্রি যত গভীর হয়, নতুন দিন খুব দ্রুত চলে আসে। ২৫ মার্চ কাল রাত পার হবার পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। বাংলাদেশকে মুক্ত ঘোষণা করেছিলেন। ফলে এই ২৫ মার্চ আমাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছিল, এই অত্যাচার থেকে বাঙালি যে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেটিই আমরা পরবর্তীকালে নয়মাসের লড়াই সংগ্রাম করে সেটি আমরা ১৬ ডিসেম্বর একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি। এরপর জাতির পিতা ১০ জানুয়ারি আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে জাতির পিতার ফিরে আসা পর্যন্ত প্রতিটি দিন হবে আমাদের লড়াইয়ের দিন, আমাদের সংগ্রামের দিন, আমাদের আত্মপ্রত্যয় বাড়ানোর দিন। আসুন আমরা মার্চের প্রতিটি দিনকে আমাদের মনে ধারণ করি। ২৫ মার্চের প্রত্যকে আমাদের চেতনার মাঝে আরও বেশি প্রোথিত করি।

বিজ্ঞাপন

দুই দিনব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে প্রথম দিন শুক্রবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী তানজীরের পরিকল্পনা ও পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে পারফরমেন্স আর্ট ‘আস্থা’।

নাটকটির প্রদর্শনী শেষে উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, বাস্তবতা,শিল্প এবং আমাদের প্রত্যাশা এই সবকিছুকে জারিত করে একটি অসাধারণ পারফরমেন্স আমরা দেখলাম তাতে যিনি এর পরিকল্পনা করেছেন, পারফরমেন্স করেছেন তার চরম দক্ষতার পরিচয় আমরা এখানে পেয়েছি। আসলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যে নানা সম্ভবনা আছে এই সম্ভাবনা আমরা নানা কাজের মধ্যদিয়ে দেখতে পাই। আজকে যে গণহত্যা দিবসে যে পরিবেশনাটি হলো তার মধ্যদিয়ে শিল্পের যে অমরত্ব, এবং শিল্পীর যে শেষ পর্যন্ত লড়াকু মনোভাব সেটিই ব্যক্ত হয়েছে, যেটি ১৯৭১ সালে আমাদের প্রতিটি বাঙালি প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর সাড়ে সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চির উন্নত মম শির ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। আটটায় গাহি সাম্যের গান মঞ্চে প্রদর্শিত হয় সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা ‘লাল মোরগের ঝুটি’। এরপর জাতীয় কর্মসূচীর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাত ৯টায় গোটা ক্যাম্পাসে ১ মিনিটের ব্লাক আউট কর্মসূচী পালন করা হয়।

এরপর শনিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সঙ্গীত সহযোগে পতাকা উত্তোলন করা হয়, এরপর সেখান থেকে শোভাযাত্রাসহকারে গিয়ে চির উন্নত মম শির ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরে শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু নীল দল, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ, কর্মকর্তা পরিষদ, কর্মচারী সমিতি ( গ্রেড১১-১৬), কর্মচারী ইউনিয়ন (গ্রেড ১৭-২০), হল কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলসহ অন্যান্যরা পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এরপর সেখানে পায়রা অবমুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দিবসটি উপলক্ষে দুপুর ১২টায় গাহি সাম্যের গান মঞ্চে শুরু হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন মানে বাংলাদেশের জীবন। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস মানে বাংলাদেশের ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস আসবে। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে জননেত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্য করেছেন তা নয়, তিনি যে কথাটি বলেছেন যে আমার শুধু ভালো কর্মী হলে চলবে না আমার ভালো ছাত্র হতে হবে, যোগ্য ছাত্র হতে হবে। যে ছাত্রটি নিজের জীবন গঠনের মধ্যদিয়ে দেশ ও জাতি গঠনে অবদান রাখবে। আমরাও সেরকম ছাত্রছাত্রী এখান থেকে বের করতে চাই।

আলোচনা সভায় মূল্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুই মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার প্রস্তাবক। ১৯৪৭ সালের ৬/৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি বাড়িতে যুব সম্মেলনে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংস্কৃতির প্রধান বাহন ভাষা। সংস্কৃতিবিহীন জাতি মুখ ও বধিরসম। তাই আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমেদুল বারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সুজন আলী, বঙ্গবন্ধু-নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. সেলিম আল মামুন, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মো. জোবায়ের হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রামিম আল করিম, কর্মচারী সমিতি (১১-১৬ গ্রেড) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, কর্মচারী ইউনিয়নের (১৭-২০ গ্রেড) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবসহ অন্যান্যরা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। সভাটি সঞ্চালনা করেন ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক রাগীব রহমান ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মাসুম হাওলাদার।

এরপর দুপুর দুটোয় বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ও সন্ধ্যা ছয়টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধের গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

বিজ্ঞাপন

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today