জিপিএ ৫ শুধুমাত্র স্বপ্ন পূরণের সোপান নয়

আবু জাফর


এমন বাংলাদেশ তো কেউ চায় না যেখানে শুধু বড় বড় ডাক্তার তৈরী হবে কোন শিল্পী-সাহিত্যিক নয়! শুধুই নির্মাতা তৈরী হবে কোন সাংবাদিক, ব্যবসায়ীক নয়! তবুও আমাদের মাথা ব্যাথা শুধু ঘুরেফিরে জিপিএ ৫ এর দিকেই।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় সহ সারা দেশে বেশ কয়েকটি যায়গায় জিপিও ৫ প্রত্যাশীদের আত্মহত্যার খবর আমাদের কাঁদিয়েছে! এটা যেন একটা কালচার হয়ে গেছে!

প্রতি বছরই নিউজফিডটা ভরে উঠে আত্মহত্যার খবরে! কিন্তু কেনো এ গড্ডালিকা প্রবাহে গাঁ ভাসিয়ে দিয়ে নিজকে নিজে হনন করা?!

ইতিহাসের পাতা উল্টালে আমরা দেখি, সভ্যতার বিনির্মাণে যাদের অবদান শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষ বলে বেড়ায়! তারা কখনই নিজের স্বপ্নের উপরে কিছু দেখতেন না! যদি দেখতেনই তাহলে আমরা রবীন্দ্রনাথ পেতাম না পেতাম ব্যারিস্টার! নজরুল পেতাম না পেতাম রুটির দোকানদার! বিজ্ঞানী ও ভারতের মহান রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম পেতাম না পেতাম সামান্য পাইলট!

আমরা হয়তো ভুলে যাই প্রত্যেক কেই সৃষ্টিকর্তা কোন না কোন প্রতিভা দিয়ে পাঠান! যে প্রতিভাকে লালন করে সে হতে পারে বিশ্বজনীন! কিন্তু আমরা আমাদের প্রতিভার দিকে দৃষ্টি না দিয়ে অন্যের সফলতা দেখে প্রতিনিয়ত বিস্মিত হই। এমনকি হতাশার পর্যায় এমন যায়গায় গিয়ে পৌঁছায় যে, আমরা আত্মহত্যার করতে দ্বিধা করি না!

চোখ বন্ধ করি,নিজেকে মনটাকে একটু পড়ি, বেশিক্ষণ লাগবে না নিজের পছন্দের বিষয়টা পেতে! মনের স্বপ্নটাকে নিজের স্বপ্ন বানালে, সমালোচকদের কথা বধিরদের মত শোনালে! আর কিছু না হোক! কথা প্রশান্তির একটা যায়গায় পৌঁছানো যাবে অবশ্যই!

সাকিব আল হাসানের বাবা ছোটবেলায় সাকিবের ক্রিকেট ব্যাট কেটে ফেলে, কই তিনি তার পছন্দের যায়গা থেকে ফিরেন নি! চারজন গৃহশিক্ষক রেখে দিয়েও ৪০ কিলোমিটার দূরের সাতক্ষীরার সুন্দরবন ক্রিকেট একাডেমিতে যাওয়া থামাতে পারেনি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের বাবা-মা! তারা কি সমাজ-চুত্য হয়েছেন?! কখনই না, বরং তারাই এখন বাংলা, বাঙ্গালীর গর্ব!

তাই প্রিয় শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের বলছি, আমাদের সফলতা লুকিয়ে আছে আমাদের পছন্দের জিনিসের ভিতরই!

এমন শত উদাহরণ পাওয়া যাবে আপনার পারা-মহল্লাতেই! স্বপ্ন হোক নিজ প্রতিভাকে বিকাশ! তাহলেই আমরা পাব একটি বিকশিত জাতি!


লেখকঃ বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

Scroll to Top