মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস টি ৩য় শ্রেনি, ৪র্থ শ্রেণি, ৫ম শ্রেণি, ষষ্ঠ ও ৭ম শ্রেনি উপযোগী লেখা হয়েছে। ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত অনেক সময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা না দিয়ে বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে ১০টি বাক্য লিখুন। আবার চাকরি কিংবা ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে আসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে অনুচ্ছেদ লিখুন। বাংলা ২য়পত্র বিষয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রচনাটি সহজ ভাষায় লিখা হয়েছে । ৩য় থেকে ৭ম শ্রেনি উপযোগী করে লেখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রচনাটি । রচনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম-
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনাটি সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা হয়েছে। যেন, একবার পড়লেই মুখস্থ হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এর জায়গায় যদি আসে আদর্শ বিদ্যালয় তাহলেও রচনাটি লিখতে পারেন। Mukti judder itihas essay is written for class- 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা
ভূমিকা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের শেকড় বহু আগেই রোপিত হয়েছিল। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে উদ্ভাসিত হয় একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ—বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমাদের দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতা চেতনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কবি শামসুর রাহমানের কথায়,“স্বাধীনতা তুমি—
বন্ধুর হাতে তারার মতন জ্বলজ্বলে এক রাঙা পোস্টার।
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি:
১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান হিসাবে বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের উপর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, এবং অর্থনৈতিক শোষণ চালাতে থাকে, যা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে। বাঙালিরা চরম শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হতে থাকে, এবং এই ক্ষোভই পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। রচনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম-
স্বাধীনতা আন্দোলন:
১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন, তখন থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ বপন হয়। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, যা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ প্রশস্ত করে। এরপরে আসে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, যা বাঙালিদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও গতিশীল করে তোলে।
প্রবাসী সরকার এবং মুক্তিবাহিনী গঠন:
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তাজউদ্দীন আহমদ-এর নেতৃত্বে প্রবাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার গঠিত হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়। কর্নেল (অব.) আতাউল গণি ওসমানীর নেতৃত্বে গঠিত মুক্তিবাহিনী সারা দেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সময়ের মধ্যে অনেক ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক এবং অন্যান্য পেশাজীবীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
ভারতের সহযোগিতা এবং চূড়ান্ত বিজয়:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ছিল অমূল্য। ভারত অস্ত্র, সেনা এবং কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে শক্তিশালী করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা:
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজও আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চেতনা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছে, এবং নতুন প্রজন্মকে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্ম অনুধাবনে সহায়ক হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
উপসংহার:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লাখো শহিদের আত্মত্যাগের স্মৃতির উপর দাঁড়িয়ে আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সেই আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়াই হবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন। রচনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম-