রাজনৈতিক রং দিলে সঠিক বিচার কাজ বাধাগ্রস্ত হয়

আশরাফুল ইসলাম খোকন


যেকোনো অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতন জনগণ প্রতিবাদী হবে এটাই স্বভাবিক। দেশকে দেশের মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে প্রতিবাদ করতে হবে। আর রাষ্ট্রকে এর বিচারের দায়িত্ব নিতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যাতে কেউ আর সাহস না পায়।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,সিলেটের এমসি কলেজ ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ধর্ষণ ও ন্যাক্কারজনক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সরকার ইতিমধ্যে সিলেট ও বেগমগঞ্জের মূল আসামির সকলকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করেছে। খুব তড়িৎ গতিতেই তাদেরকে গ্রেফতার করেছে,কোনো কালক্ষেপন করেননি।

কেউ ভার্চুয়াল মিডিয়ায়,কেউ রাজপথে ধর্ষণের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদমুখর হয়েছেন। অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে,এই প্রতিবাদ মিছিলে ধর্ষণকারীদের সহযোগীরাও আছেন।

জোর গলায় স্লোগান দিচ্ছেন। ধর্ষণকারীর বিচার করা যাবেনা অনেকটা এইরকম দাবিতে কিছুদিন আগেও তারা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। নেটিজেনদের ভাষায়,ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে ধর্ষক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে রূপান্তরিত হয়েছেন।

২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসীদের দ্বারা যখন মহিমা ফাহিমা হুনুফা পূর্ণিমারাসহ ১৭ হাজার ২০০ মা-বোন ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে তখন যদি প্রতিবাদ হতো বিচার হতো তাহলে হয়তো আজ রাজপথে দাঁড়াতে হতো না।

তবে কোনো অঘটনেরই রাজনৈতিক রং দেয়া উচিত না। তাহলে সঠিক বিচার বাধাগ্রস্ত হয়। জনগণ বিভ্রান্ত হয়। বিচার চাওয়া ও প্রতিবাদ করা অবশ্যই উচিত। কিন্তু যারা রাজনৈতিক রং দেয়ার চেষ্টা করেন তারাও সমান অপরাধী।

লেখক
আশরাফুল ইসলাম খোকন
ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা