ইবি প্রতিনিধি: স্বাধীনতাত্তোর দেশে প্রথম বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তবে করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতিতে এবার স্বল্প পরিসরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
রবিবার (২২ নভেম্বর) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচির মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকাল ১১টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে শান্তি ও আনন্দের প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে এরপর প্রশাসন ভবনের পাশ্ববর্তী জায়গায় ৪২টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরে প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে কেক কাটা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া সন্ধ্যা ৬টায় আয়োজন করা হয়েছে অনলাইন আলোচনাসভা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম-এর সভাপতিত্বে ওয়েবিনার-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং অতিথি হিসেবে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ উপস্থিত থাকবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে উপাচার্য অধ্যাপক অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য শুধু সমুন্নত রাখাই নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করতে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আরও বেশি করে মনোনিবেশ করবেন ৷ তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, একুশ শতকের উপযোগী করে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদরূপে গড়ে তোলা এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনার লক্ষ্যে ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলকে একনিষ্ঠ ও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে ৷
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শন্তিডাঙ্গা-দুলালপুর নামক স্থানে ১৭৫ একর জমিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে দুটি অনুষদের চারটি বিভাগে ৩ শত ছাত্র ভর্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক যাত্রা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৮টি অনুষদের ৩৪টি বিভাগে ১৫ হাজার ৩৮৪ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। যাদের মধ্যে ছাত্র ১০ হাজার ২৯১ এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৯৩ জন। বর্তমানে ৩৯৭ জন শিক্ষক শিক্ষাদানে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও ৪৫৯ জন কর্মকর্তা, ১৭৭ জন সহায়ক কর্মচারী এবং ১৭৭ জন সাধারণ কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখে চলেছেন।