এই লেখাটি ‘আই হেইট পলিটিক্স’ প্রজন্মের জন্য

জি. কে. সাদিক


কোন ব্যক্তি রাজনীতি করবে কি না এটা তার একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু রাজনীতি করুক বা না করুক কেউ এই পৃথিবীতে বাস করলে অন্তত তাকে রাজনীতির অধিনেই বাস করতে হবে। সে যে খাদ্য গ্রহণ করছে, যে পানীয় পান করছে, যে পোশাক গায়ে দিচ্ছে, যে চাকরি করছে, যে মাইনে পাচ্ছে কোনোটাই রাজনীতির বাইরে নয়।

দেশের মানুষ মোটা চালের ভাত খাবে নাকি চিকন চালের খাবে এটা নির্ধারণ রাজনীতির মাধ্যমেই হয়। ঢাকায় বাস করা মানুষগুলো ময়লা পানি পান করবে নাকি ফ্রেশ ও নিরাপদ পানি পান করবে এটাও নিধারণ করে রাজনীতি। অসুস্থ্য হলে হাসপালে চিকিৎসা পাবে কি না, পেলেও কেমন চিকিৎসা হবে সেটাও ঠিক হয় রাজনীতির মাধ্যমেই। দেশের গরীব বাঁচবে না কি ধনি বাঁচবে সেটাও রাজনীতির সিদ্ধান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় কিম্বা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কত টাকা বরাদ্দ হবে সেটাও রাজনীতি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কী পড়ানো হবে সেই সিলেবাসও ঠিক করে রাজনীতি। পরিক্ষা কখন কীভাবে হবে সেটাও রাজনীতির ইচ্ছের উপর নিভর করে। একজন ছাত্র হলে কীভাবে সিট পাবে এবং পাওয়ার পর সে কীভাবে থাকবে সেটাও নিধারণ করে রাজনীতি। হলের ডাইনিং বা ক্যান্টিনে খাবারের মান কেমন হবে সেটাও রাজনীতির ছায়ার বাইরে নয়।

শিক্ষাজীবন শেষে কেউ চাকরি পাবে কি না সেটাও রাজনীতির আওতাতেই পরে। প্রেমিক তার প্রেয়সীকে নিয়ে কোথায় কেমন কতটা সীমা নিয়ে ঘুরতে পারবে, তার প্রেম নিবেদন করতে পারবে সেটাও রাজনীতির বাইরে নয়। বিচ্ছেদ কিম্বা মিলনও রাজনীতির আওতাতেই হয়। বিয়ের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ কিম্বা সন্তান উৎপাদনের সিদ্ধান্তের পিছনেও থাকে রাজনীতির হাত।

একজন মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু হবে না কি অস্বাভাবিক মৃত্যু হবে এটাও রাজনীতির ইচ্ছের উপর নির্ভর করে। অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার কাজটিও রাজনীতির বাইরে নয়। এক কথায় বলতে গেলে মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব কাজই রাজনীতির সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করে।

রাজনীতির এমন বিষ্ময়কর ব্যপ্তির কোনো লুকচোরির বিষয় নয়। সবই দৃশ্যমান। কিন্তু তারপরও বিরাট সংখ্যক মানুষ অনায়েসেই বলে ‘আমি রাজনীতিকে ঘৃণা করি’। বর্তমানে এই সংখ্যাটা অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংখ্যাটা মূলত তরুণ প্রজন্ম। যারা এখন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কেউবা পেশাজীবী।

রাজনীতিকে ঘৃণাকারী সে যে পেশারই হোক তার ঘৃণাকৃত বস্তুই তাকে সব সময় নিয়ন্ত্রণ করে। আর সে নিজেও তার কাছেই নত হয়ে থাকে। আমার এই লেখা মূলত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া দেশের শিক্ষিত ও সচেতন বলে দাবিকারী ‘আই হেইট পলিটিক্স’ বলা শিক্ষার্থীদের জন্য।

বাংলাদেশের যা কিছু সোনালী অর্জন সব কয়টার সাথেই ছাত্রদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ যখনই পথ হারিয়েছে তখন ছাত্ররাই এই দেশের মানুষের নার্ভের পান্স অনুভব করে দেশটাকে পথ দেখিয়ে উদ্ধার করেছে। এই ঐতিহাসিক সত্য সবার জানা। এমনকি যে প্রজন্মটা রাজনীতিকে ঘৃণা করছে তারও এই ইতিহাস জানে কম বা বেশি।

কিন্তু তারপরও কেন শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ রাজনীতিকে ঘৃণা করছে সেটা ঐতিহাসিক জিজ্ঞাসা। এর মূলেু চারটি কারণ রয়েছেÑ এক. সময়ের প্রেক্ষিতে সমাজজীবনে ও রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন; দুই. শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস বোধ, আত্মসচেতনতা ও বিবেকবোধের হ্রাস; তিন. শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক মানসিকতা ঢুকি রাজনীতিকে দুবর্ৃত্তায়ন করে মেধাবীদের রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দেয়া; চার. রাজনৈতিক দল ও নেতা কর্তৃক সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ।

যেগুলো বললাম সবই পরিসংখ্যান ধরে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের বিষয়। কিন্তু এই লেখায় সে দিকে যাবো না। বাস্তব কিছু বিষয়কে সামনে এনে উদাহরণের মতো করে উপরে যে চারটি কারণের কথা উল্লেখ করেছি সেগুলোর সাথে মিলাব।

রাজনীতি ঘৃণাকারী শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশের বক্তব্য হচ্ছে, ‘রাজনীতি করে কী হবে? যারা রাজনীতি করছে সবাই তো মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। যতো বড়-বড় অন্যায় অনাচার এরাই করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখল, চাঁদাবাজী, টেন্ডার নিয়ে মারামারি-খুনোখুনি, প্রশ্ন ফাঁস, শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন সবই এরাই করে।

আর এদের পিছনেই মানুষ জন বেশি এবং এরা খুব শক্তিশালী তাই আমি বা আপনি একা কিছু করতে পারবো না। এই নোংরামি আমার পছন্দ না তাই রাজনীতি করবো না।’ উপরোক্ত অভিযোগগুলোর একটাও মিথ্যা নয়। কিন্তু যে অপকর্মগুলো হচ্ছে রাজনীতির নাম করে সেগুলো তো রাজনীতি নয়। একই কথাটা শিক্ষার্থীরা ধরতে পারেনি।

এটা মূলত রাজনীতিকে ঘৃণা করার তিন নম্বর কারণ এবং এক নম্বর কারণের দ্বিতীয়াংশের সাথে সম্পর্কিত। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছে যে এসব খারাপ কাজ কিন্তু এটাকে বন্ধ করা দরকার বা এটাকে পরিবর্তন করা দরকার। এই ব্যবস্থাকে চলতে দেয়া যায় না। এর ভুক্তভোগী আমরা সবাই। সুবিধা নিচ্ছে মাত্র কয়েকজন ব্যক্তি। প্রজন্ম পরম্পরায় আমরা সবাই এই পরিস্থিতির ভোক্তভুগী।

তাই এই ব্যবস্থাকে আর চলতে দেয়া যাবে না। এর বিরুদ্ধে আমাকে অবস্থান নিতে হবে এবং পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে এই চিন্তাটা তাদের মধ্যে আসেনি। আসলেও তারা ভেবে থাকে যে, আমি একা কী করবো। এই মানসিকতার সংখ্যটাই বেশি। শিক্ষার্থীদের এই মনোভাব থেকে বুঝা যাচ্ছে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির বিরুদ্ধেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান।

কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের কেন তাহলে দুর্বত্তায়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করা যাচ্ছে না। বা সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এক হচ্ছে না। এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী রাজনীতিকে ঘৃণা করার তথা চার নম্বর কারণ।

যে প্রজন্মটা রাজনীতিকে ঘৃণা করে তাদের বড় অংশটাই ইতিহাস জ্ঞান শূন্য। তারা ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস জানে না। এই ছাত্র রাজনীতি সমাজের, দেশের ও মানুষের জন্য কতটা অপরিহার্য সেটা ইতিহাসের কাছে পাঠ নেয়নি।

যার ফলে তারা বর্তমানে যে অপরাজনীতি দেখছে সেটাকেই চিরসত্য মনে করছে। তারা জানে না যে পাকিস্তান আমলে এ দেশে এনএসএফ নামে একটা ছাত্র সংগঠন ছিল আইয়ূব-মোনায়েম অনুগত্য যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রাসের রাজনীতি করার কারণে তৎকালীন রাজনীতি সচেতন শিক্ষার্থীদের ধারাই বিতাড়িত হয়েছিল।

একইভাবে স্বৈরাচারী এরশাদের জাতীয় ছাত্র সমাজও একই কারণে বিতাড়িত হয়েছিল। এই ইতিহাস তাদের অজানা। যার ফলে তারা বর্তমানে যে সন্ত্রাসের ছাত্র রাজনীতি দেখছে সেটাকেই চিরাচারিত বলে মনে করে অদৃষ্টের উপর ভরসা করে বসে আছে। এটা রাজনীতি ঘৃণা করার দুই নম্বর কারণের প্রথমাংশের সাথে সম্পর্কিত।

আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের ও তাদের পরিবারের চিন্তা হচ্ছে পড়ালেখা শেষ করে একটা ভালো চাকরি নিয়ে বিয়ে করে নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা। পরিবারগুলো তাদের সন্তানকে ছোট থেকেই এই নিরাপদ জীবনের মানসিকতা নিয়ে বড় করে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা সিলেবাস ভিত্তিক কিম্বা চাকরির জন্য পড়া বাইরে নিজেদের মধ্যে আত্মসচেতনা বোধ ও বিবেকের দায় অনুভব করে না।

তারা মেনেই নিয়েছে যা ঘটছে এটা পরিবর্তন হবে না। তাই নিজে বাঁচাই এখন সময়ের দাবি। সে পরিবার থেকেই এই শিক্ষা পেয়েছে। আমাদের দেশে বা বিশ্বেই যারা রাজনীতিকে জনস্বার্থের জন্য ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য বেছে নিয়েছিল তাদের প্রত্যেকের পিছনেই তাদের পরিবারের ব্যাপক বড় ভূমিকা ছিল। কারণ পরিবারের সর্মথন না থাকলে একজন মানুষের পক্ষে রাজনৈতিক সংগ্রাম সম্ভব নয়।

কিন্তু বর্তমানে পরিবারেই শিক্ষা দেয়া হচ্ছে যে রাজনীতিতে যাওয়া যাবে না। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছে যারা রাজনীতি করছে এরা জীবনটাকে শেষ করে দিচ্ছে। ওরা করে তো করুক আমি ভালো হই। পরিবার যেটা করছে সন্তানের মানসিকতা গঠনের জন্য সেটা রাজনীতিকে ঘৃণা করার এক নম্বর কারণের প্রথমাংশ।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনীতিকে ঘৃণা করার প্রবণতা সৃষ্টির কয়েকটি কারণ সংক্ষেপে উপরে উল্লেখ করেছি। এবার যারা রাজনীতিকে ঘৃণা করছে তাদের উদ্দেশ্যে বয়ান। যে সব সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতিকে ঘৃণা করছে এবং তারই এক বন্ধু রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার ফলে সে ভাবছে ছেলেটা তার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। দিন শেষে ওই সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে কোন বৈধ অধিকার ও দাবি আদায়ের জন্য এই যে জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়া শিক্ষার্থীরই দরকার হয়।

রাজনীতিকে ঘৃণা করেও কিন্তু হলে সিটা পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলেই যেতে হচ্ছে। অথচ হলে সিট পাওয়া তার অধিকার। এখন এই অধিকার ছেড়ে দিয়েও অপরাজনীতির কাছেই আত্মসমর্পন করে হচ্ছে অন্যদিকে যদি সে আত্মসমর্পন না করে তার অধিকার ফিরে পেতে চায় তাহলেও তাকে হল দখলদারিত্বের রাজনীতির বিরোধী পক্ষে অবস্থান করে রাজনৈতিক সংগ্রাম করেই নিজের ও সবার অধিকার ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তাই কোনোভাইে রাজনীতিকে ঘৃণা করে নিরাপদ থাকা যাচ্ছে না। দিন শেষে বরং একজন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, চরিত্রহীন, টেন্ডারবাজ, নিপীড়ক ছাত্র নেতার কাছে আত্মসমর্পন করে হচ্ছে। কিন্তু সে যদি এই দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে নিজে কাজ শুরু করতো এবং অন্যকে শুরু করতে উদ্ভুদ্ব করতো তাহলে তাকে অপরাজনীতির কাছে মাথা নোয়াতে হতো না। সে বরং স্বাধীন হতে পারতো। কিন্তু রাজনীতিকে ঘৃণা করার প্রবণতাই তাকে খারাপ লোক দ্বারা শাসিত হতে বাধ্য করেছে।

একইভাবে আমরা দেখছি যে সারা দেশে দুর্নীতি হচ্ছে। সরকার মানুষকে বন্দী করতে কালাকানুন করছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা চুপ। অথচ ছাত্ররাই এক সময় পাকিস্তানের কালাকানুন থেকে এ দেশকে মুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এবং তারা জয়ী হয়েছে। কিন্তু এখন তারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে না। কারণ তারা ইতিহাস জানে না। এবং নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশা তাকে গ্রাস করে ফেলেছে। করোনা পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিছে যে, অপরাজনীতি ও অসভ্য শাসকদের অধিনে থেকে কখনই নিরাপদ জীবন সম্ভব নয়।

এস আলম গ্রুপের মালিকদের টাকার কমতি ছিল না। তাদের জীবনও কিন্তু নিরাপদ হয়নি। কারণ তারা অপশাসকের অধিনে নিরাপদ জীবন কামনা করেছে। যেটা কখনই সম্ভব নয়। বিসিএস দিয়ে সচিব হওয়া কিম্বা পুলিশ প্রশাসনে চাকরি করা মানুষটিও করোনায় নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা পায়নি। নিরাপদ জীবন প্রত্যাশীরা কিন্তু হাসপাতালের গেইটে বিনাচিকিৎসায় সব চেয়ে অনিরাপদ ও অস্বাভাবিক মৃত্যু মুখোমুখী হয়েছে। তাহলে পরিবারগুলো যখন একটা দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির অধিনে ও অপশাসকদের দ্বারা শাসিত সমাজে তার সন্তানকে নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে সেটা তো চরম অলিক ও অবাস্তব স্বপ্ন বৈ কিছু নয়।

নিরাপদ জীবনের চেষ্টাতো সেটাই যে কাজ করে আপনার, আমার ও দেশের সব মানুষের জন্য জীবনের নিরাপত্তা সম্ভব হবে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা আসবে সে চেষ্টাই তো নিরাপদ জীবনের চেষ্টা। ভালো করে মনে রাখা উচিত যে নিরাপদ জীবন অবশ্যই আসবে ইতিবাচক রাজনীতির হাত ধরে সম্ভব।

রাজনীতিকে ঘৃণা করে কখনই মুক্তি সম্ভব নয়। তাই যে রাজনীতি মানুষের কথা বলে, দেশ ও সমাজের কথা বলে, সমাজ প্রগতির কথা বলে, মানব মুক্তির কথা বলে তাদের পক্ষ নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। কোনো মানুষের পক্ষেই রাজনীতির বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। কোনো পাত্র কখনই খালি থাকে না। তেমনি রাজনীতি নামক সমাজ কাঠামো নিয়ন্ত্রণের পাত্রটিও কখনই খালি থাকবে না।

ভালো মানুষ রাজনীতিতে না আসা মানে অসভ্য মানুষদের কাছে রাজনীতির মতো জীবনের অবিচ্ছেদ্য বিষয়কে ছেড়ে দেয়া। বাংলাদেশে সেটাই হয়েছে। এখন যে আমরা চোর-বাটপার, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, অশিক্ষিতি ও কুশিক্ষিত, লুটপাটকারী, মাদক ব্যবসায়ী, মিথ্যুক-প্রতারক, ভণ্ড, প্রতিক্রিয়াশীল ও সমাজপ্রগতি বিরোধী এমপি-মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি আমলাদের দ্বারা শাসিত হচ্ছি তার কারণ ভালো মানুষগুলো রাজনীতিতে আসেনি। তারা ‘আই হেইট পলিটিক্স’ প্রজন্মের পূর্ব-পুরুষ।

জি. কে. সাদিক
সাংবাদিক ও কলাম লেখক. কুষ্টিয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Comment