করোনায় জবিয়ানদের ঈদ ভাবনা, মহামারী পরিস্থিতিতে সেই ঈদের আমেজ নাই!

ফারহান আহমেদ রাফি, জবি প্রতিনিধি:


সারাবিশ্বের মতো করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশে ঈদুল আযহা উদযাপনে ভিন্ন রকম আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকটা চার দেয়ালের মধ্যেই কাটছে বেশিরভাগ মানুষের ঈদ।এবারে কোরবানির আয়োজন যেমন ছিল সীমিত, তেমনি সবাই মিলে নামাজ পড়া বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার মতো প্রচলিত রীতিতে দেখা গেছে বড় ধরণের পরিবর্তন।

করোনার মধ্যে কেমন কাটলো জবি শিক্ষার্থীদের ঈদ এ বিষয়ে জবি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস টুডের প্রতিনিধি ফারহান আহমেদ রাফি। পাঠকদের উদ্দেশ্যে জবিয়ান দের ঈদ উদযাপন , ভাবনা তুলে ধরা হলো :

আফসানা আক্তার চাঁদনী

১৪ তম ব্যাচ

নৃবিজ্ঞান বিভাগ

করোনার মধ্যে পার হলো আরো একটি ঈদ।ঈদ মানেই হলো খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নতুন জামা পরে মায়ের হাতে বানানো সেমাই খাওয়া, বন্ধুদের নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, বড়দের কাছ থেকে সালামী নেওয়া। কিন্তু করোনার এই সময়ে ঈদের সেই খুশি যেনো কারো মনেই নেই,সব কিছু যেনো থমকে গেছে।ঘর থেকে বের হলেও একটা ভয়ের কাজ করে।ছোট ছোট বাচ্চাদের মাঝেও যেনো সেই আনন্দ নেই।তারা চাইলেও কেউ একসাথে ঈদের দিন আনন্দ করতে পারে নি।ঘরের মাঝে বন্ধি হয়েই অন্যান্য দিনের মত ঈদ পার করতে হয়েছে।রোজার ঈদের থেকে কুরাবানির ঈদে যেনো সবার মাঝে একটু বেশিই আনন্দ থাকে।কিন্তু করোনা নামক এই মহামারীর সময়ে চাইলেও আগের মত আনন্দ করতে পারি নি।তারপর ও ঈদ এসেছে সবার মাঝে,একটি দিনের জন্য হলেও ঘরের মাঝে থেকে পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করার চেষ্টা করেছি।

বায়জিদ রহমান

পরিসংখ্যান বিভাগ

১৪ তম ব্যাচ

ইদ মানেই আনন্দ ইদ মানেই খুশি।
সেই আনন্দ টা আরো দ্বিগুন হয়ে পরে যখন ফ্যামিলির সবাই একসাথে থাকে।আমার নানুবাড়ি,দুই মামা,দুই খালাম্মুদের এবং আমাদের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় আমরা একসাথেই কোরবানি দেই সেই সুবাধে ইদের দিন সবাই একসাথে বড় খালাম্মুদের বাড়িতে যাই।ঐখানে খালাতো ভাই-বোন,মামাতো ভাই-বোন রা,খালাম্মু-খালু, মামা-মামি,নানা-নানু সবাই আসে।মুহূর্তে অন্যরকম একটা পরিবেশ তৈরি হয়ে যায় অনেকদিন পর সবাই সবাইকে দেখতে পেরে সবার মুখেই ফুটে উঠে ইদ আনন্দ।

এবারের ঈদ বর্ণনা দিতে গেলে-ইদের আগের দিন রাতে প্রায় আমার কাছের যতগুলা ফ্রেন্ড,বড় ভাই-আপু,ছোটো ভাই-আপু দের সাথে কথা বলতে বলতে রাত প্রায় ৪ টা বেজে গেছে।সকালে সাড়ে ৫ টায় আম্মুর ডাকে আবার ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে সেমাই খেয়ে সবাই মিলে খালাম্মুদের বাসায় গেলাম ততক্ষণে পরিবার এর সবাই এসে গেছে।সেখানে গিয়ে সবার সাথে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করে সব ভাই রা মিলে নামাজ পড়তে গেলাম মসজিদ এ,দুঃখের বিষয় একটাই যে দেশে করোনা পরিস্থিতির জন্য জনসমাগম এড়ানোর জন্য এবার ঈদগাহে ৩-৪ গ্রামের মানুষ একসাথে নামাজ পড়া হলো নাহ্,যে যার যার মসজিদ এই নামাজ আদায় করলাম।নামাজ পড়ে নানার বাসায় গেলাম ঐখানে বড় মামি নাস্তা দিলো সবাই মিলে নাস্তা করে বড় খালাম্মুদের বাসায় চলে গেলাম।এখানে এসে ছোটো পোলাপান রে সালামী দেওয়া, তারপর গরু কুরবানি দেওয়া হলো তারপর শুরু হলো আমাদের কাজ করা,কাজের ফাঁকে ফাঁকে ফ্রেন্ডদের,বড় ভাই-আপু,ছোটো ভাই-বোনদের ফোন দেওয়া,মেসেজ করা,কার ইদ কেমন কাঁটতেছে এইসব ছিলো আনন্দের মধ্যে ও আরো আনন্দ বয়ে আনার অংশ।সারাদিন কাজ শেষে বাসায় আসলাম।পরিশেষ এ এটাই বলবো যে বরাবর ই কোরবানির ইদ আমার জন্য আনন্দ বয়ে আনে এবার ও তার ব্যতিক্রম ছিলো নাহ্,পরিবার এর সবাই মিলে ইদ উদযাপন করার আনন্দ টাই “ইদ”নামক শব্দটার তাৎপর্য আরো বেশি করে দেয়।

মালিহা আফরিন

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

১৪ তম ব্যাচ

ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ।টানা ১ বছর দীর্ঘ অপেক্ষা করার পর আমাদের মুসলমানদের জন্য এ দুটো ঈদ নিয়ে আসে খুশির বার্তা। বাড়িতে বাড়িতে,অলিতে গলিতে,পথের আনাচেকানাচে মনে হয় যেন সর্বদা ঈদের আমেজে প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠে।

তবে এ বছরের দুটো ঈদই আমাদের সকলের অন্যরকম কাটাতে হচ্ছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য কেউ কারো কাছে যেতে তো পারছেই না তারসাথে ঈদের মূল খুশি যেই নামাজ পড়া আর কোলাকুলি করা সেটাও অনেকেরই সম্ভব হচ্ছে না। শুধুমাত্র এক অদৃশ্য ভাইরাসের কারণে।অন্যবছরের মতো আনন্দ আর খুশি এবার আর নেই।চারদিকে এক চুপচাপ থমথমে পরিবেশ। মানতে হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি আরও কত কি। এক অদৃশ্য অনুজীবের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে আমাদের। জানি না আর কতকাল এই যুদ্ধ আমাদের করে যেতে হবে।

এ বছরের মতো দুটো ঈদেরই বাজে অভিজ্ঞতা কখনো ভুলার নয়।এ যেন এক তিক্ত পরিস্থিতি। না কারো সাথে দেখা হচ্ছে না বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া হচ্ছে।কোথাও ঈদ এসেছে বলে বাচ্চাদের হইহুল্লোড় নেই।নেই এ বাড়ি থেকে ওবাড়ি গিয়ে সবাই একসাথে মেহেদী পরার উৎসবও।কোনোকিছুই হচ্ছে না।

রমজানের ঈদ আর কুরবানের ঈদ।এদুটোর মধ্যে আমার কুরবানি ঈদই বেশি প্রিয়। কারণ ধনী-গরীবের বৈষম্য বেশিরভাগই কুরবানি ঈদেই দূরীভূত হয়। এদিন যারা দুবেলা ঠিকমতো খেতে পারে না তারাও মাংস ভাত খেতে পারে। রমজানের ঈদে গরীবদের কথা ধনীরা ভুলে গেলেও কুরবানি ঈদে তাদের কথা ঠিকই মনে থাকে,মনে রাখতে হয়।রেখে দিতে হয় তাদের প্রাপ্য অংশটুকু। এটাই আমাদের ইসলামের শিক্ষা।

মনে রাখতে চাই না এই ২০২০ সালকে। মনে রাখতে চাই না এদুটো ঈদকে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যাতে খুব শীঘ্রই আমাদের এর হাত থেকে রক্ষা করেন। পুরো পৃথিবীকে আবার আগের মতো সুস্থ এবং সুন্দর করে দিন।

আরও পড়ুনমৃত্যুশঙ্কায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী, বাঁচাতে প্রয়োজন ৩ লক্ষ টাকা

রাফসান জামিল রাজু

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

১৪ তম ব্যাচ

মহামারী করোনায় ঈদের আমেজ টা আগের মত পাওয়া যায়নি। তাই বলে কি নিজেকে হতাশ রাখতে হবে? মোটেও না! আনন্দটা নিজে থেকে খুঁজে নিতে হয়। করোনার মধ্যে এবারের ঈদুল আজহা টা একটু ব্যতিক্রম ছিল। লকডাউন এর আগে থেকে আম্মুর দেশের বাইরে থাকায় ঈদের দিন মনটা একটু খারাপ ছিল। কিন্তু সকাল সকাল ঈদের নামাজ শেষে আমার বন্ধু রাকিব তার বাড়িতে নিয়ে গেল এবং সেখানেই সকালের নাস্তা করে দিন টা শুরু হলো। এর পরেই গরু কোরবানি করা হলো এবং হাতে হাতে সবার সাথে কোরবানির কাজগুলো করা হলো । এর মধ্যেই বৃষ্টি আসলো এবং আমাদের আনন্দটা আরো বেড়ে গেল। যতক্ষণ বৃষ্টি ছিল ততক্ষণই ভিজেছি। বৃষ্টিতে ভেজার পর নুডুলস খেয়েছি। সব কাজ শেষ হওয়ার পর বাড়ি গেলাম, ফ্রেশ হলাম। তারপর বন্ধুর ফোনে আবার ওদের বাড়ি গেলাম এবং গিয়ে এক বাটি গোস্ত ভোজন করলাম। এরপর বাড়ি এসে একটু বিশ্রাম নিলাম। আর সারাদিন ধরেই অনেকের ফোন মেসেজ ঈদ শুভেচ্ছা সবার টা একটু রেসপন্স করার চেষ্টা করলাম। ও বাড়িতে এসে সবার আগেই আম্মুর সাথে কিছুক্ষন ভিডিও কলে কথা বললাম। রাতে আমার একজন শিক্ষিকা যাকে আমি মা বলে ডাকি অর্থাৎ আমার সে ধর্ম মা ফোন দিয়ে নিয়ে গেলেন। অবশ্য দুপুর থেকেই সে ফোন দিচ্ছিলো যাওয়ার জন্য। ওখানে রাতে খাওয়া দাওয়া করলাম এবং আমার তার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করলাম তারপর বাড়ি চলে আসলাম। আমার মতে আনন্দটাকে খুজে নিলেই তা পাওয়া যায়। আলহামদুলিল্লাহ ভালোই কাটলো আমার ঈদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Comment