বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

চাকরি না পাওয়া রুয়েট ছাত্র আতিকুর ৪ বছরেই কোটিপতি!

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২.৫৬ পিএম

ক্যাম্পাস টুডে ডেস্কঃ বর্তমানে আতিকুরের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা হলেও পুঁজিসহ নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় তিন কোটি টাকা। সব খরচ বাদে মাসিক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় থাকছে।

পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাশ করার পরও তিনি উপযুক্ত চাকরি নিয়ে হতাশায় পড়ে যান।

বিজ্ঞাপন

তার স্বপ্নগুলো যখন ফিকে হয়ে আসছিল তখন উদ্যোক্তা হয়ে উঠার সিদ্ধান্ত নেন আতিকুর। তার ওই সিদ্ধান্তই জীবনটা পাল্টে দিয়েছে। চাকরি নিয়ে হতাশায় থাকা সেই ইঞ্জিনিয়ার এখন কোটিপতি হয়ে উঠেছেন। আর এরজন্য তিনি সময় নিয়েছেন মাত্র ৪ বছর।

ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষিত হয়ে সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার হয়ে দেশের সেবা করার। জয়পুরহাট জেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের বাদাউস গ্রামের কৃষক আতাউর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০১৪ সালে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এরপর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিলেও চাকরি না হওয়ায় সমাজ ও পরিবারে নিজেকে অযোগ্য মনে হতে থাকে তার। এমন সময়ে আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার সেই ডায়লগ মনে পড়ে যায় আতিকুরের। যদি একটি বানরের সামনে একটি কলা ও একশ ডলার ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে বানর কলাটিকেই নেবে। কারণ বানর জানে না একশ ডলার দিয়ে আরো অনেকগুলো কলা কিনা যায়।

আতিকুর সিদ্ধান্ত নেন চাকরি নয় ব্যবসা করবেন তিনি। মানুষকে চাকরি দেবেন তিনি।২০১৫ সালে ৭ দিন মেয়াদি গবাদি পশু পালনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। এরপর পরিবারের নিকট থেকে সামান্য কিছু আর টিউশনির জমানো টাকা দিয়ে চারটি গরু নিয়ে পথচলা শুরু করেন আতিকুর। এসময় যুব উন্নয়ন থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর ক্ষেতলাল উপজেলার পাঠানপাড়া ও করিমপুর এলাকায় ভাড়া নেওয়া সেডে টার্কি, তিতির, কেদারনাথ ও কোয়েল পাখি চাষ করেন আতিকুর। পরবর্তীতে ব্যাংক থেকে কিছু ঋণ ও লাভের টাকা দিয়ে সোনালী, ব্রয়লার ও মাছ চাষ শুরু করেন। এরপর তাহেরা মজিদ মাল্টিপারপাস এগ্রো ইন্ডা. লি. নামে একটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন।

এর অধীন রয়েছে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান। মণ্ডল হ্যাচারি এন্ড চিকস, মেসার্স আদি ট্রেডার্স ও মেসার্স মণ্ডল ট্রেডার্স। এছাড়া সায়ান ফার্মেসি নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার সত্ত্বাধিকারী তার স্ত্রী শিউলী খাতুন। সব মিলে বর্তমানে ৪৫ জন স্থায়ী এবং ৩৫ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছে তার। অনেক বেকার যুবক এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে তাদের বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন আতিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

তার ফার্মে এখন প্রায় এক লাখ সোনালী মাংসের মুরগী, ১০ হাজার সোনালী ডিমের মুরগী, ৫০ হাজার ব্রয়লার মুরগী, ৬টি পুকুর যাতে প্রায় এক হাজার মণ ওজনের রুই, কাতলা, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া মাছ রয়েছে। এসব কারণেই সফলতার স্বীকৃতিও মিলেছে আতিকুরের। জাতীয় যুব দিবস-২০১৮ জেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ সফল আত্মকর্মী ও উদ্যোক্তা’ হয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today