বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

চার ধর্ষককে তাড়িয়ে নিজেই ‘ধর্ষণ’ করলেন সাবেক ‘ছাত্রলীগ নেতা’!

  • আপডেট টাইম রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৯, ৯.১৪ পিএম

সারাদেশ টুডেঃ ভোলার মনপুরা উপজেলায় স্পিডবোটে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করছিল চার যাত্রী। ধর্ষণের ঘটনা দেখে মালিককে খবর দেন স্পিডবোটের চালক। খবর পেয়ে মালিক এসে ওই চারজনকে মারধর করে ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে নিজেই ধর্ষণ করেন ওই নারীকে।

রবিবার (২৭ অক্টোবর) ওই গৃহবধূকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার চর পিয়ালে এক বাগানের মধ্যে গণধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। আড়াই বছরের সন্তানের সামনে তাকে গণধর্ষণ করা হয়। স্থানীয় পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ঘটনার তথ্যের সত্যতা জানা গেছে।

এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সহায়তা করার অভিযোগে গতকাল শনিবার রাতে মনপুরা থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ।

ধর্ষণের অভিযোগে আসামি করে মামলা করা হয়েছে তাঁরা হলেন, মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং স্পিডবোটের মালিক নজরুল ইসলাম (৩০); মো. বেলাল পাটোয়ারী (৩৫); মো. রাশেদ পালোয়ান (২৫); মো. শাহীন খান (২২) ও মো. কিরন (২৬)। এছাড়া ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে মামলার আসামি হলেন স্পিডবোটের চালক মো. রিয়াজ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চঘাট থেকে মনপুরার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ না পেয়ে তিনি এক স্পিডবোটে ওঠেন। বোটে আরও দু’জন যাত্রী ওঠে।

পথিমধ্যে জনতার খালের পাড় থেকে আরও দু’জন ওঠে। একপর্যায়ে ওই যাত্রীরা স্পিডবোট চালককে চরপিয়ালে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। সেখানে তাকে চারজন ধর্ষণ করে।

এরপর জনতার খাল থেকে স্পিডবোট নিয়ে চালক ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নজরুলের কাছে নিয়ে যান। নজরুল তখন চারজনকে মারধর করে ৩ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়।

এ সময় নজরুল ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য গৃহবধূকে হুমকি দেন। এ ছাড়া কাউকে কিছু বললে ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

এদিকে ধর্ষণের এ ঘটনা বাগানের রাখাল ও মহিষ মালিকেরা দেখে ফেলেন। পরে তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান অলিউল্যাহ কাজলকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। এরপর চেয়ারম্যান সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চর পিয়াল থেকে ওই গৃহবধূকে স্পিডবোটে করে উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান অলি উল্লাহ কাজল জানান, “চরপিয়ালের গণধর্ষণের ঘটনাটি মোবাইল ফোনে মহিষ বাথানরা তাকে জানান। ঘটনাটি মনপুরা থানার ওসিকে জানানো হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার গৃহবধূকে চর থেকে উদ্ধার করা হয়।”

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, “গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। স্পিডবোটটি জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”

দ্য ক্যাম্পাস টুডে।

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today