ঢাকা-১৮ আসন: ত্যাগী নেতা হিসেবে সাহারা খাতুনের বিকল্প কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাছিম

ঢাকা-১৮ আসন: ত্যাগী নেতা হিসেবে সাহারা খাতুনের বিকল্প কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাছিম

আবু জাফর আহমেদ মুকল


গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢাকা-১৮ আসন দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগ, উত্তরা এবং উত্তরখান থানা এবং আশেপাশের কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এবং হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ আনোয়ার হোসেন।

গত ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন মারা যাওয়ায় ঢাকা-১৮ আসনটি শূণ্য হওয়ায় সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৬ হাজার ১৫৮ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫৫ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড চান যারা যোগ্য, পরীক্ষিত, দুঃসময়ে দলের কান্ডারি ও ত্যাগী ছিলেন তাদের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তবে ঢাকা-১০ আসনের মতো অনেক শীর্ষ ব্যবসায়ীগন ঢাকা-১৮ আসনটি পাওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানা যায়।

তবে সাধারন জনগন চান ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় করুক এবং রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করুক। এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের যগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তারের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে ।

দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকার বাসিন্দা ভোটার রাকিব বলেন, ‘আমরা এলাকার উন্নয়ন চাই। যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম একজন ক্লিন ইমেজ ও ত্যাগী নেতা হিসেবে দলে পরিচিত হওয়ায় এলাকার উন্নয়নের সাথে সে সম্পৃক্ত হতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম ১৯৬১ সালের ১১ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিক্রমপুরের মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য যে, তৎকালীন সময়ে সমগ্র মুন্সীগঞ্জ জেলা, মাদারীপুর জেলা, শরীয়তপুর জেলা, ফরিদপুরের পূর্বাংশ, নারায়ণগঞ্জ সদর, ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ বিক্রমপুরের অন্তর্গত ছিল। তার পিতার নাম এ. এন. মহিউদ্দিন আহমেদ ও মাতা নূরজাহান বেগম।

আওয়ামী লীগের যগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি, সেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের মহাসচিব এবং মাদারীপুর-৩ (সদরের আংশিক-কালকিনি-ডাসার) আসনের সাবেক এমপি।

এছাড়াও তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষিবিদ ইন্সটিউট অব বাংলাদেশ(কেআইবি) প্রতিষ্টার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

বিভিএ এর পুর্নগঠন, কৃষিবিদ ক্যাডার সংবর্ধনা, মানবিক সাহায্য সহযোগীতা, কৃষিবিদ দিবস পালন সহ নানা সামাজিক কাজে তার ভূমিকা অনেক অপরিসীম। কৃষিবিদ পদক, বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক প্রদানসহ কৃষিবিদদের বিভিন্ন সংগঠনে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

২০১৮ সালে কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমকে আজীবন সম্মামনা দিয়েছেন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-কেআইবি ।

এছাড়াও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম দুই বার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মহাসচিব এবং দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৮১ সালে মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হন। দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারীও ছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সালে কলেজ জীবনে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

এছাড়াও দলের দুর্দিনে তিনি হাল ধরেছেন ও বিভিন্ন সময়ে নানা জেল-নির্যাতন সহ্য করেছেন।
করোনাকালীন তিনি দলীয় কর্মসূচি ও এলাকার জনসেবায় বেশি সক্রিয় রয়েছেন। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে প্রথম পছন্দ নেতা-কর্মীদের।

কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন। তিনি এমপি থাকাকালীন মাদারীপুরের কালকিনিতে ব্যাপক উন্নয়ন করে জনপ্রয়িতাও অর্জন করেন। কালকিনির প্রতিটি এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম হন তিনি এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা পৌছে দেন।

জানা গেছে, বাহাউদ্দিন নাছিমের নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী করেছিলেন। বিচক্ষণ, কর্মী ও জনবান্ধব এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছে সমান সমাদৃত ছিলেন বাহাউদ্দিন নাছিম। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।

বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে ‘অন্ধকার কালকিনির প্রতি গ্রামের ঘরে ঘরে, ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যুতায়ন হবে প্রতি ঘরে। কৃষিবিদ জননেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি শুধু বিদ্যুৎ খাতে বিরাট পরিবর্তন করেছেন। ঢাকার সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের দাবি ঢাকা-১৮ আসনটি আবারও নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হলে ত্যাগী-নিবেদিত প্রাণ, আস্থা-গতিশীল, আদর্শিক নেতৃত্ব ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজের প্রার্থী প্রয়োজন। আর এসব বিবেচনায় এখানে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে।

জনাব বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি থাকাকালীন নিজেই প্রতিনিয়ত দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে সংগঠনকে সর্বদা চাঙ্গা রেখেছেন। আর তার দিক নির্দেশনায় ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণ চাঞ্চল্যতা।

স্থানীয় পর্যায়ে তার নেতৃত্বে ও পরামর্শে প্রতিটি ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামী সংগঠন হয়েছে সুসংগঠিত। তাই সংসদ সদস্য হিসেবে অভিজ্ঞতা ও কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিমকে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের অনেকেই ঢাকা-১৮ আসনটির জন্য তাকে এগিয়ে রাখছেন।

লেখকঃ শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিশ্লেষক, ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ এবং গবেষণায় প্রধানমন্ত্রীর ফেলোশীপ প্রাপ্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *