স্বাধীনতার চেতনায় হোক তরুণদের চেতনা

স্বাধীনতার চেতনায় হোক তরুণদের চেতনা

ইকবাল মুনাওয়ারঃ নভেম্বর মাস শেষ হওয়ার পর আমাদের মাঝে আসে বিজয়ের মাস। বিজয়ের মাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ৭১ এর বিসর্জন স্মরণ করিয়ে দেয় বাঙালি বীরদের ত্যাগের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় ও বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে বাঙালি বীররা রুখে দিয়েছিল হানাদারদের সমস্ত পরিকল্পনা।

দেশপ্রেমের চেতনা বুকে লালন করে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করার পর অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। লাল সবুজের পতাকা উড়েছিল পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পাওয়া এই সবুজ বাংলায়।

স্বাধীনতা অর্জনের পর এই সময়ে দাড়িয়ে আমরা বিভিন্ন পত্রিকায় দেখতে পায় তরুণরা মাদকদ্রব্য সেবন সহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত। আমাদের দেশের বর্তমান অনেক তরুণ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত। নারী উত্যক্ত সহ ফেইসবুক পাড়ায় নানা খারাপ কাজ ও খারাপ কিছু ভাইরাল করা সহ নানা ধরনের নৈতিকতা বর্জিত কাজে বর্তমান তরুণরা নিমজ্জিত। মা বোনদের ইজ্জতের জন্য বাঙালি বীর সেনারা জীবন দিয়েছিল আজ প্রায়ই দেখা যায় প্রেমের নাম করে শত শত বোনদের ইজ্জত নিয়ে খেলা করে উঠতি এই প্রজন্ম।

এই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হল তরুণ। এই তরুণ প্রজন্ম যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশপ্রেম অন্তরে লালন করে আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যায় বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে উঁচু করে দাঁড়াবে। এই বিজয়ের মাসে তরুণ প্রজন্ম যেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে সৎ যোগ্য আদর্শ দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেকে গড়ে তুলে তাহলে মাতৃভূমি এগিয়ে যাবে বিশ্বের উচ্চ শিখরে।

পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাল মিলয়ে চলতে গিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি চেতনা যেন না হয় কোন অবহেলিত বিষয়। বরং বাঙালি চেতনার পাশাপাশি যেন হয় পশ্চিমা সংস্কৃতি একটি সাধারণ বিষয়। শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবস, বিজয় দিবস যেন দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হয় এবং এই দিবস গুলোর চেতনায় যেন তরুণদের মনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাতৃভুমি এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র প্রত্যয় হয়। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস গুলো যেন হয় তরুণদের একমাত্র প্রেরণা।

বর্তমান তরুণদের যদি খেয়াল করা হয়, তারা বর্তমান যে ভুলে নিমজ্জিত আছে তা বাঙালি ইতিহাসের পরিপন্থী। অন্যায়কে আশ্রয় দেয়নি বাঙালি তরুণরা। সুকান্তের ভাষায়, তারা লাথির আঘাতে পাথর ভাঙে। কিন্তু পাশ্চাত্য বা ভারতীয় সাংস্কৃতির আগ্রাসনে তরুণরা আধুনিক হওয়ার চিন্তায় নানা নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে সমাজের অশালীন কাজে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় মত্ত।

বিভিন্ন দিবসকে বন্দি করা হয়েছে সামান্য কিছু লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতায়। তরুণরা আজ ভুলতে বসেছে অতীত ইতিহাস। স্বাধীনতার চেতনা পাথেয় হয়ে হোক উন্নততর চিন্তা ভাবনা। নিপাত যাক সমস্ত অন্যায়।


লেখকঃ শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।


সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *