বশেমুরবিপ্রবিতে টানা ৪৮ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা

বশেমুরবিপ্রবি টুডেঃ টানা ৪৮ দিন ধরে ক্লাস বর্জন এবং সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাতেও অংশগ্রহণ করেননি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ইলেকট্রনিকস এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে গত ২৭ নভেম্বর থেকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিভাগটির প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ষের সকল শিক্ষার্থী পরীক্ষা বর্জন করেছেন।

গত ১৭ অক্টোবর থেকে ইটিই বিভাগকে ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইন্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সাথে একীভূতকরণের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং ২৭ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত একাডেমিক ভবনে ইটিই বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘ইটিই’ বিষয়ে চাকরির ক্ষেত্র দিনদিন কমে যাচ্ছে। যেহেতু টেলিকমিউনিকেশন সংশ্লিষ্ট সকল চাকরির ক্ষেত্রেই ইইই কে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এবং ‘ইইই’ বিভাগের সাথে ‘ইটিই’ বিভাগের কোর্স কারিকুলামও প্রায় ৯০% মিলে যায়। তাই ‘ইটিই’ বিভাগের শিক্ষার্থীরা চান তাদেরকে ‘ইইই’ এর সাথে একীভূত করা হোক।

‘ইটিই’ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র কামরুল হাসান জানান, “বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গুলোতে শুধুমাত্র ‘সিএসই’ এবং ‘ইইই’ এর শিক্ষার্থীদের চায়, এমনকি বিটিসিএলে যেখানে কে প্রাধান্য দেয়ার কথা সেখানেও ‘ইটিই’কে রাখা হয় চতুর্থ পছন্দ হিসেবে। আমরা সর্বত্র অবহেলিত হচ্ছি। আমরা সার্টিফিকেট অর্জন করে বেকারত্বের বোঝা বইতে চাইনা তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান জানান, “আমি ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং তাদের দাবি পূরণ আমার ক্ষমতার বাইরে। তাদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য নতুন উপাচার্য নিয়োগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমি ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের বিষয়টি জানিয়েছি।”

প্রসঙ্গত, বর্তমানের ‘ইটিই’ বিভাগটি ২০১১ সালে এপ্লাইড ফিজিক্স এন্ড ইলেকট্রনিক্স (এপিই) হিসেবে যাত্রা শুরু করে, পরবর্তীতে ২০১৪ সালে বিভাগটিকে এপ্লাইড ফিজিক্স, ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইন্জিনিয়ারিং (এপিইসিই) বিভাগে পরিবর্তন করা হয় এবং ২০১৭ সালে ‘ইটিই’তে রূপান্তর করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Comment