মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

বশেমুরবিপ্রবি: ক্লাসরুম নেই, নেই ল্যাবরুম, নিজস্ব শিক্ষকও নেই

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০, ৪.০৩ পিএম
বশেমুরবিপ্রবি: ক্লাসরুম নেই, নেই ল্যাবরুম, নিজস্ব শিক্ষকও নেই

বশেমুরবিপ্রবি টুডে


“বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষপ্রান্তে একটা পরিত্যক্ত ভবনে আমরা ক্লাস করি। আমাদের কোনো ক্লাসরুম নেই, ল্যাবরুম নেই; এমন কি নিজস্ব শিক্ষকও নেই। ক্লাসের হোয়াইট বোর্ড থেকে শুরু করে মার্কার,ডাস্টার সবকিছু নিজেদের কিনতে হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকরা সময় পেলে সপ্তাহে একদিন অথবা দুদিন ক্লাস নেন এবং অন্য বিভাগগুলো আমাদেরকে তাদের ল্যাবে প্রবেশের সুযোগ দিলে আমরা ল্যাবে কাজ করার সুযোগ পাই। তাছাড়া আমাদের কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ভর্তি হয়েও নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েই শরণার্থীর মত আছি আমরা।”

বিজ্ঞাপন

এমন হতাজনক মন্তব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা আইসিটি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নিজস্ব শিক্ষক, নিজস্ব গভর্নিং বডি, ল্যাবসুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি অব্যাহত রাখাসহ সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইনস্টিটিউটটির শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

ইনস্টিটিউটটিতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, ভর্তির সময় সাবেকভিসি অধ্যাপক ড.খোন্দকার নাসিরউদ্দিন, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সাবেক সভাপতি আক্কাস আলী এবং সাবেক প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া আশ্বাস দিয়েছিলেন ইনিস্টিটিউটের অধীনে হলেও তারা সকল সুযোগ সুবিধা পাবেন। কিন্তু একবছর পার হলেও তাঁরা তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা পাননি। বিভাগটির নিজস্ব শিক্ষক, ক্লাসরুম ,ল্যাবরুম কিছুই নেই। তাছাড়া বর্ত্মানে কেউ ইনিস্টিটিউটটির পরিচালকের দায়িত্বও গ্রহণ করতে চান না। এদিকে সুযোগ-সুবিধার অভাবে চলতি শিক্ষাবর্ষে ইনস্টিটিউটে ভর্তি কার্যক্রম ও বন্ধ রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এসময় শিক্ষার্থীরা আরো জানান, প্রতিটি সেমিস্টার ৬ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও শিক্ষকের অভাবে তাদের ১ম সেমিস্টার শেষ করতে প্রায় ১০ মাস সময় লেগেছে।

বিজ্ঞাপন

বশেমুরবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড.মোঃ শাহজাহান জানান,”অবকাঠামো সহ পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে এমন শর্তে ইনিস্টিটিউটটির অনুমোদন দিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। কিন্তু সাবেক উপাচার্য নূন্যতম সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করেই ইনিস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে যার ফলে এধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে যেসকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন সেগুলো চলতি উপাচার্য হিসেবে আমার ক্ষমতার বাইরে।”

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) অধীনে তৃতীয় ইনিস্টিটিউট হিসেবে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং (বিভাগ) এবং ইলেকট্রনিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইন্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ নিয়ে শিবচরে যাত্রা শুরু করে শেখ হাসিনা আইসিটি ইনস্টিটিউট। এদিকে শিবচরে কোনো ধরনের অবকাঠামো না থাকায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়। জানা যায়, বর্তমানে ইনস্টিউটটির অধীনে সিএসই তে ৫৯ জন এবং ইইইতে ২৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

The Campus Today YouTube Channel

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazar_creativenews_II7
All rights reserved © 2019-20 The Campus Today