লেন্স

ছোটবেলায় একবার শখ করে আব্বুর চশমা চোখে দিয়েছিলাম৷ দেখি সবকিছুই ঘোলা হয়ে গেল৷ আব্বু বাসায় এলে জিজ্ঞাসা করলাম

— আব্বু তুমি চশমা পরো কেন?
— চোখ খারাপ হয়ে গেছেতো বাবা, তাই চশমা ছাড়া ভালভাবে দেখতে পাইনা৷
— কিন্তু একই জিনিষ, তোমাকে ভাল দেখায়, আর আমাকে দেখতেই দেয়না কেন??

— আব্বু হাসলেন, আর আমাকে বললেন, এটা সাধারণ কাঁচ না বাবা, এটা হল লেন্স৷ সাধারন কাঁচকে অনেক ঘষে-মেজে, কষ্ট দিয়ে এই লেন্স বানানো হয়৷ আর এত কষ্ট সহ্য করেও এরা হাসিমুখে “লেন্স” হয়…. শুধুমাত্র অন্যের জগৎটাকে স্বচ্ছ এবং পরিস্কার করে দেবার জন্য৷

— কিন্তু আমি তো দেখতেই পাচ্ছিনা, তোমার এই লেন্স দিয়ে৷ ও কি আমাকে পছন্দ করেনা?

এবার আমাকে হাসতে হাসতে বুকে জড়িয়ে ধরলেন আব্বু৷ বললেন, এই লেন্সগুলো তৈরীই হয়… দূর্বল চোখের শক্তি ফিরিয়ে দেবার জন্য৷ তোমার চোখতো ভাল৷ তাই তুমি যখনই ওকে চোখে দাও — ও তোমাকে দেখায় এবং বোঝায়, চোখ খারাপ হয়ে গেলে…. চারপাশটা কেমন অস্পষ্ট-ঘোলা হয়ে যায়!

তার মানে, লেন্স দূর্বল চোখকে শক্তি দেয়…. আর ভাল চোখকে, দূর্বল চোখের কষ্টগুলো বুঝতে সাহায্য করে৷

আমি চাই, তুমিও তোমার জীবনটাকে কষ্টের আগুনে পুড়িয়ে, নিজেকে “লেন্স” বানাবে! যেই লেন্স হবে … অসহায়দের সহায়, আর অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা!!

জানি, আব্বুর স্বপ্নকে এখনো বাস্তব করতে পারিনি আমি৷ কিন্তু এখনো স্বপ্ন দেখি … আমাদের এই ঘুনেধরা স্বার্থপর সমাজে, বিভিন্ন অন্যায়ের মাঝেও — প্রত্যেক পেশাতেই, এমন কিছু মানুষ তৈরী হবে… যারা হবে, অসহায়দের সহায়… আর অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা!

লিখেছেন: ডা. এজাজ বারী চৌধুরী,
ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Comment