জহির রায়হানের জন্মদিন আজ

সাহিত্য টুডে


কালজয়ী চলচ্চিত্রকার ও বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক জহির রায়হানের ৮৬তম জন্মদিন আজ। অসাধারন প্রতিভাবান মানুষটি ১৯৩৫ সালের আজকের এই দিনে ফেনীর মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম যে ১০ জনের দলটি ১৪৪ ধারা ভেঙেছিল,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতক শেষ করা জহির রায়হান তাদেরই একজন। সরাসরি যুক্ত ছিলেন ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গেও।সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত থাকায় ক্যামেরা হাতে বেশ সক্রিয় ছিলেন বিভিন্ন কর্মসূচিতে।

ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির প্রতি ঝোক ছিল জহির রায়হানের। চলচ্চিত্রেও তার আগ্রহ সে সময় থেকেই। ১৯৫৭ সালে পাকিস্তানি চিত্রপরিচালক জারদারির সঙ্গে কাজ করেন তিনি। ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ তার প্রথম ছবি উর্দু ভাষার। তারপর ১৯৬১ সালে তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনও আসেনি’ মুক্তি পায়। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের প্রথম রঙিন ছবি ‘সঙ্গম’ নির্মাণ করেন তিনি। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’। ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করেন তিনি। এর মাধ্যমে জনগণকে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জহির রায়হান চলে যান কলকাতায়। শুরু করেন তার অন্য রকম যুদ্ধ। ক্যামেরা হাতে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন
বিভিন্ন সীমান্তে এবং এক শরণার্থী শিবির থেকে আরেক শরণার্থী শিবিরে।

জহির রায়হানের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে- ‘কখনো আসেনি’, স্টপ জেনোসাইড, এ স্টেট ইজ বর্ন, জীবন থেকে নেওয়া’ কাঁচের দেয়াল’ ইত্যাদি।

তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হচ্ছে- ‘শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কত দিন, কয়েকটি মৃত্যু, একুশে ফেব্রুয়ারি, তৃষ্ণা ইত্যাদি।

এছাড়া তার রচিত গল্পসমগ্র হচ্ছে- সূর্যগ্রহণ, সোনার হরিণ, সময়ের প্রয়োজনে, একটি জিজ্ঞাসা, হারানো বলয়, বাঁধ, নয়াপত্তন, মহামৃত্যু, ভাঙাচোরা, অপরাধ, স্বীকৃতি, অতি পরিচিত, ইচ্ছা অনিচ্ছা, জন্মান্ত, পোস্টার, ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি, কতকগুলো কুকুরের আর্তনাদ, কয়েকটি সংলাপ, দেমাক, ম্যাসাকার, একুশের গল্প ইত্যাদি।

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন। এছড়া চলচ্চিত্র বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নিগার পুরস্কার, ‘একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বড় ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারের সন্ধানে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি এই নন্দিত চলচ্চিত্র পরিচালক। তার মৃতদেহটিও পাওয়া যায়নি। ওই দিনটি জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবস হিসেবে পালিত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Comment